আগামী সপ্তাহে প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) আয়ের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে চলেছে ফ্যাশন জায়ান্ট জারার মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিটেক্স। শক্তিশালী মুনাফার খবর দিতে পারবে বলে আশাবাদী সংস্থাটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বেশি মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও বিক্রিতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ায় এ সুবিধা পেয়েছে ইন্ডিটেক্স। খবর রয়টার্স।
জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে সংকটের এ সময়ে, ইউরোপের খুচরা বিক্রেতারা ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করার ব্যয় এবং পণ্যের সাশ্রয়ী মূল্য নিশ্চিত করার জন্য একটি জটিল ভারসাম্যমূলক পদক্ষেপের সম্মুুখীন হচ্ছে। রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট এবং কভিড-১৯ মহামারী রোধে চীনে দেয়া লকডাউন নতুন করে চাপ তৈরি করেছে। তবে অন্যান্য যেকোনো ব্র্যান্ডের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে ইন্ডিটেক্সের মুনাফা। ইন্ডিটেক্স মূলত জারা ব্র্যান্ডের জন্যই সুপরিচিত। এ ব্র্যান্ড তাদের বিক্রির ৭১ শতাংশ সরবরাহ করে।
এ প্রতিষ্ঠানও পণ্যমূল্য নিয়ে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ে। যদিও গ্রাহকরা বরাবরই ফ্যাশনের ক্ষেত্রে জারার হঠাৎ নতুন নতুন কিছু বের করে আনার বিষয়টা পছন্দ করেন। আরবিসির বিশ্লেষক রিচার্ড চ্যামবারলেইন এক গবেষণার নোটে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা আশা করি মন্দার সময়ের মধ্যেও ইন্ডিটেক্সের বিক্রির প্রসার হবে। ঠিক যেমনটা হয়েছিল ২০০৮ ও ২০০৯ অর্থবছরের সংকটের সময়ে। যেসব গ্রাহক দুই বছর ধরে বাড়িতেই আটকা পড়ে ছিলেন, তারাও এখন তাদের ওয়ার্ডরোব নতুন করে গোছানোর চিন্তা করছে।
জারা পণ্যের শুরুর দাম জানুয়ারিতে আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১০ শতাংশ বাড়িয়েছে বলে উঠে এসেছে ইউবিএসের এক গবেষণায়। এপ্রিলে সংস্থাটির পণ্যের শুরুর দাম ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এ গবেষণায় জারার ওয়েবসাইটের ১২টি মূল বাজারে যে দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সেদিকে নজর রাখা হয়েছে।
বিপরীতে ইউরোপীয় অন্যান্য পোশাকের ব্র্যান্ড যেমন এইচঅ্যান্ডএম এবং জালান্দোর গড় খুচরা মূল্য এপ্রিলে ৪ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ওই মাসে ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতিরও রেকর্ড হয়েছিল। মাসে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছিল বলে জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের স্ট্যাটিস্টিকস এজেন্সি।
ইন্ডিটেক্স ৮ জুন প্রথম প্রান্তিকের ফলাফল প্রকাশ করে। রেফিনিটিভ তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা, সংস্থাটির মুনাফা ৯৩ শতাংশ বেড়ে ৮১ কোটি ২০ লাখে দাঁড়াবে। গত বছর নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে দোকানপাট বন্ধ থাকায় বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় ইন্ডিটেক্সের ব্যবসা। তাছাড়া এ বছর ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পরে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় রাশিয়ায়ও কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে ইন্ডিটেক্স। দেশটিতে সংস্থাটির অনলাইন কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে, বন্ধ আছে ৫০২টি দোকান।










