চীনে ব্যবসা সংকুচিত করছে জাপানি কোম্পানিগুলো। দুই দেশের সম্পর্কে টানাপড়েন, চীনের অর্থনৈতিক শ্লথতা এবং সার্বিকভাবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে জাপানের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। খবর রয়টার্স।
জাপানের ১ হাজার ৪০০ কোম্পানি নিয়ে গত ৮-২২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জরিপ পরিচালনা করে দেশটির চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। তাতে অংশ নেয়া চার ভাগের এক ভাগ কোম্পানি জানিয়েছে, তারা চলতি বছরে নতুন চীনে বিনিয়োগ করবে না। ২২ শতাংশ জানিয়েছে, তারা দেশটিতে বিনিয়োগের পরিমাণ কমাবে।
চীনে কাজ করা বিদেশী কোম্পানিগুলোর মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে জাপান। সেখানে ব্যবসা পরিচালনাকারী অর্ধেকের বেশি কোম্পানির আয় কমে গেছে গত প্রান্তিকে। অর্থনৈতিক মন্থরতা, মহামারীর অভিঘাতে পর্যটন খাত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন দেশটি থেকে প্রত্যাশিত আয়ে প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের জাপানবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি। চলতি বছরে জাপানের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানির নির্বাহীকে গ্রেফতারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরো ঘোলা হয়েছে। বিনিয়োগকারীরা নতুন করে বিনিয়োগ করতে দ্বিতীয়বার ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।
জাপানের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান তেতসুরো হোমা জানান, জাপানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী চলতি বছরের জুলাইয়ে চীনের কাছে ব্যবসা অনুকূল পরিবেশ তৈরির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তারপর দেশটির সরকার বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে ২৪ দফা পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। কিন্তু জাপানি ব্যবসায়ীরা এখনো সরকারের নীতিমালা নিয়ে স্পষ্ট নয়। প্রয়োগের ধরন নিয়েও রয়েছে দ্বিধা।
চীনে বিনিয়োগ কমিয়ে আনার কারণ হিসেবে একেক কোম্পানি একেক কারণ তুলে ধরেছে। কোনো কোম্পানি দেশটিতে চলমান অর্থনৈতিক ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। কেউ বিবেচনায় নিয়েছে মূল্যস্ফীতিকে। তবে অধিকাংশ খাদ্য উৎপাদনকারীরা জানিয়েছেন, সেখানকার বাজারে বিদেশী খাদ্যের চাহিদা কমে গেছে। পাশাপাশি মজুরি বৃদ্ধির ঘটনা দুই-তৃতীয়াংশ কোম্পানির বাণিজ্যিক কার্যক্রম কমিয়ে আনতে উদ্বুদ্ধ করেছে। শিল্পোৎপাদনের সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর ৫৬ শতাংশ এবং শিল্পোৎপাদনবহির্ভূত কোম্পানিগুলোর ৭২ শতাংশ মনে করে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও তাদের ব্যবসা সংকোচনের বড় কারণ।
চীন ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সাম্প্রতিক দিনগুলোয় দ্রুত নেতিবাচক দিকে বাঁক নিয়েছে। চলতি বছরের আগস্টের শেষ দিকে জাপানি সি-ফুড আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চীন। ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তেজস্ক্রীয় পানি প্রশান্ত মহাসাগরে ছাড়ার জন্য নেয়া হয় এ সিদ্ধান্ত। তাছাড়া টোকিও যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক জোরদার করেছে। গত মে মাসে বেইজিংয়ের স্বার্থবিরোধী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে জি৭ সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে। বিষয়গুলো ভালোভাবে নেয়নি চীন সরকার। এমনকি দেশটিতে জাপানবিরোধী মনোভাব বাড়ছে সম্প্রতি। বিপরীত দিক থেকেও রয়েছে উদ্বেগ। তাইওয়ানের পাশে সামরিক টহল এবং জাপান অধিকৃত সামুদ্রিক অঞ্চলে চীনের কোস্ট গার্ডের অনুপ্রবেশ নিয়ে রয়েছে উত্তেজনা।
এদিকে রয়টার্সের একটি পৃথক জরিপে উঠে এসেছে, অধিকাংশ জাপানি কোম্পানি ২০২৫ সালের আগে চীনের মন্থরতা কাটবে বলে মনে করে না। তাদের অনেকেই ব্যবসা সরিয়ে নেয়ার জন্য বিকল্প বাজারের চিন্তাভাবনা করেছে।










