চলতি মৌসুমে ভারতে গম উৎপাদন বাড়ার পূর্বাভাস মিলেছে। উৎপাদন বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটস এক সমীক্ষার ফলাফলে এ পূর্বাভাস দিয়েছে।

গত বছরের জুলাইয়ে গম উৎপাদন মৌসুম শুরু হয়। চলতি বছরের জুনে মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১১ কোটি টন গম উৎপাদন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগের মৌসুমে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৮০ লাখ টন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চলতি মৌসুমে ভারতে গম আবাদের পরিমাণ কমে গিয়েছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এটি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারেনি।

২০২০-২১ মৌসুমে ভারত সরকার ১০ কোটি ৯৫ লাখ টন গম উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছিল। কিন্তু বৈরী আবহাওয়ার কারণে পূর্বাভাসের তুলনায় কিছুটা কম উৎপাদন হয়েছে।

ভারতে চালের পর খাদ্যশস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় গম। আক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত কৃষিপণ্যটির আবাদ সম্পন্ন হয়। ফেব্রুয়ারি-মার্চ পর্যন্ত ফসল সংগ্রহ করা হয়। চলতি মাসের শেষে দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয় উৎপাদন প্রাক্কলন প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে ৩ কোটি ৪২ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে গম আবাদ করা হয়। গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে আবাদ।

চলতি মৌসুমে মধ্য প্রদেশ ও বিহারে আবাদ বেড়েছে। পাঞ্জাব, রাজস্থান ও গুজরাটে আবাদ স্থিতিশীল ছিল। তবে উত্তর প্রদেশ ও হরিয়ানায় আবাদ কমেছে।

একটি বহুজাতিক খাদ্যশস্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান জানায়, উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানাসহ প্রধান অঞ্চলগুলোয় আবাদ কমে যাওয়া সত্ত্বেও উৎপাদন বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজার অংশীজনরা।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ জানায়, গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় ১১৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদন অঞ্চল কেন্দ্রীয় ও উত্তরপশ্চিম ভারতে স্বাভাবিকের তুলনায় ১৭৭ শতাংশ বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

ভারতের এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড প্রসেসড ফুড এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি জানায়, এদিকে চলতি বছরের এপ্রিলে ভারতে গমের নতুন বিপণন মৌসুম শুরু হবে। শেষ হবে আগামী বছরের মার্চে। এ সময় চলতি মৌসুমে উৎপাদিত গম রফতানি কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত বছরের এপ্রিল-নভেম্বর পর্যন্ত ভারত ৪১ লাখ টন গম রফতানি করেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানায়, আগামী মাসে চলতি বিপণন মৌসুম শেষ হবে। এ সময় ভারতের গম রফতানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৫২ লাখ ৫০ হাজার টনে।

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আর্জেন্টিনা ও অস্ট্রেলিয়া গমের সরবরাহ বাড়ানোয় ভারতের রফতানি কমে যেতে পারে। এ দুটি দেশ রফতানি বাড়ানোয় তাদের উৎপাদিত গমের বাজার থাকবে নিম্নমুখী, যা আন্তর্জাতিক বাজারে ভালো অবস্থান তৈরি করে নিতে সক্ষম হবে। এছাড়া অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় দেশের রফতানি মূল্যও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। এটি ভারতের জন্য অসুবিধা হয়ে দাঁড়াবে। এদিকে ভারতীয় গমের গুণগত মান নিয়েও শঙ্কা রয়েছে আমদানিকারকদের মাঝে। ফলে তারা কৃষ্ণ সাগরীয় ও অস্ট্রেলিয়ান গমকে এক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।