বিশ্বব্যাপী ২০২৪ সালে বাড়তে পারে পাম অয়েলের দাম। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার মতো শীর্ষ উৎপাদক দেশগুলোয় সরবরাহ কমা ও বায়োডিজেল তৈরিতে পাম অয়েলের চাহিদা প্রবৃদ্ধি এক্ষেত্রে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। শিল্প বিশ্লেষকরা এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন। খবর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটসের জরিপে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ২০২৪ সালের তিন মাস সরবরাহ চুক্তিতে টনপ্রতি অপরিশোধিত পাম অয়েলের গড় দাম দাঁড়াতে পারে ৪ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিতে বা ৮৫৬ ডলার ৪৪ সেন্টে। ১১টি বাজার ও সরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যের আলোকে এ জরিপ করেছে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল।
আন্তর্জাতিক বাজারে পাম অয়েলের দাম অন্যান্য ভোজ্যতেলের মূল্যকেও প্রভাবিত করে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রতি টন পাম অয়েলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৯৮ রিঙ্গিতে, যা ২০২২ সালের গড় দামের তুলনায় ২৩ শতাংশ কম।
এদিকে এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি) চুক্তিতে ইন্দোনেশিয়ার অপরিশোধিত পাম অয়েলের গড় মূল্য দাঁড়াতে পারে টনপ্রতি ৮৯২ ডলার ২ সেন্টে। গত নভেম্বরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ২০২৪ সালে পাম অয়েলের দামকে প্রভাবিত করার মতো মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে এল নিনো, ক্রমবর্ধমান বায়োডিজেলের চাহিদা ও খাদ্যের চাহিদা বৃদ্ধি।
চলতি মাসে মালয়েশিয়ান পাম অয়েল কাউন্সিল পূর্বাভাস দিয়েছে, বিশ্বের বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদক ও রফতানিকারক ইন্দোনেশিয়ায় আগামী বছর জৈব জ্বালানি বা বায়োডিজেলের চাহিদা বাড়বে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বায়োডিজেল তৈরির প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার অপরিশোধিত পাম অয়েলের (সিপিও) ব্যবহার আগামী বছর বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ১০ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টনে। এ সময় ভোজ্যতেল হিসেবে ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে এক কোটি টনে। পাম অয়েলের বৈশ্বিক সরবরাহের ৫৮ শতাংশই আসে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে। খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুষ্ক আবহাওয়া ও নতুন আবাদের অভাবে ২০২৪ সালে এ দেশ দুটিতে পাম অয়েলের উৎপাদন কমে যেতে পারে। শিল্প নিয়ন্ত্রকদের পূর্বাভাস বলছে, ইন্দোনেশিয়ায় আগামী বছর পাম অয়েল উৎপাদন ৪ কোটি ৮৫ লাখ টন এবং মালয়েশিয়ায় ১ কোটি ৮৫ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।
আবহাওয়া সংস্থাগুলোর পূর্বাভাস বলছে, ২০২৪ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় এল নিনোর মাঝারি ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। ফলে শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রত্যাশিত বৃষ্টিপাত কমে যাবে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে এল নিনোর প্রভাবে ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের ফলন ১৭ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পাম অয়েল সম্মেলনে হামবুর্গভিত্তিক বিশ্লেষক সংস্থা অয়েল ওয়ার্ল্ডের প্রধান টমাস মিলকে বলেছেন, ‘বৈশ্বিক ভোজ্যতেলের মোট সরবরাহের ৪০ শতাংশই পাম অয়েল। ২০২৩-২৪ মৌসুমে এ উদ্ভিজ্জ তেলটির উৎপাদন চার বছরের সর্বনিম্নে নামতে পারে।’
এদিকে আগামী বছর বৈশ্বিক পাম অয়েল আমদানির শীর্ষ দুই দেশ ভারত ও চীন থেকে ক্রয়াদেশ কিছুটা কমে যেতে পারে। কারণ হিসেবে পণ্যবাজারসংক্রান্ত পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান ট্রান্সগ্রাফের প্রধান নাগরাজ মেদা বলেছেন, ‘উচ্চ সুদহার ও মন্দা দশার কারণে ২০২৪ সালে এ দেশ দুটি থেকে পাম অয়েলের ক্রয়াদেশ কমে যেতে পারে।’
শিল্প তথ্য বলছে, সয়াবিন ও সূর্যমুখী তেলের তুলনায় দাম কম থাকায় ২০২২-২৩ বিপণন বছরে (নভেম্বর-অক্টোবর) ভারত রেকর্ড ১ কোটি ৫ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করেছে। তবে চলতি মৌসুমে (২০২৩-২৪) আমদানির পরিমাণ নামতে পারে ৯০ লাখ ৮০ হাজার থেকে ৯৩ লাখ টনে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিসের (এফএএস) তথ্যমতে, ২০২২-২৩ বিপণন বছরে (জুলাই-জুন) চীনের পাম অয়েল আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ৯০ হাজার টনে।










