চলতি বছর রাশিয়ান ইস্পাতের চাহিদা ৩০ শতাংশ বা ১ কোটি ৩০ লাখ টন কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাশিয়ান স্টিলমেকারস অ্যাসোসিয়েশন রুসকায়া স্টল দেশটির উপপ্রধানমন্ত্রীকে এক চিঠিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল কমোডিটি ইনসাইটের দেয়া তথ্যানুযায়ী, রাশিয়ার লৌহ গঠিত ধাতব উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলোয় ইস্পাতের চাহিদা লক্ষণীয় মাত্রায় কমছে। এটি সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে অটোমোবাইল শিল্পে। এরই মধ্যে দেশটির আটটি কার প্লান্ট নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। চলতি বছর কার তৈরির পরিমাণ কমে অর্ধেকে নেমে আসতে পারে।

যদিও রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর আগে দেশটির ইস্পাতের চাহিদা কিছুটা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল। রাশিয়ার শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক প্রতিষ্ঠানগুলো ২-৩ শতাংশ চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। মূলত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি তখন চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করছিল বলে জানান বাজার বিশ্লেষকরা।

তথ্য বলছে, রাশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্ক অপারেটর রাশিয়ান রেলওয়েজ চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১১ দশমিক ৭, তৃতীয় প্রান্তিকে ১৮ ও চতুর্থ প্রান্তিকে ২০ শতাংশ রেলওয়ে পরিবহন শুল্ক নির্ধারণের পরিকল্পনা করছে।  

উপপ্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে রুসকায়া স্টল অব্যাহতভাবে শুল্ক বৃদ্ধি বন্ধের অনুরোধ জানায়। তবে রাশিয়ান রেলওয়েজের মুখপাত্র বলেন, শুল্ক বাড়ানোর কোনো ঘোষণা এখনো দেয়া হয়নি।

চিঠিতে বলা হয়, কনটেইনার সংকটের কারণে বর্তমানে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন বেশ ব্যয়বহুল। খুব কমসংখ্যক কার্গোই রাশিয়ান পণ্য পরিবহন করছে। অন্যদিকে ইউরোপের বন্দরগুলোয় রুশ কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া রাশিয়ান ব্যাংক ও বিভিন্ন করপোরেশনের ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে সম্প্রতি ডলারের বিপরীতে রাশিয়ান রুবলের দাম ব্যাপক হারে কমেছে। এসব কারণে ক্রেতাদের মধ্যে রাশিয়ান ইস্পাত ক্রয়ে অনীহা দেখা দিয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান এটন বলছে, পরিশোধিত ইস্পাত পণ্যসহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে রাশিয়া তার বিদ্যমান বাজারে প্রায় এক কোটি টন ইস্পাত রফতানি করতে পারবে না। এটি চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করছে। 

অন্যদিকে ইউরোপ রাশিয়ান রোলড ইস্পাত কেনা বন্ধ করে দেয়ায় দেশটির ইস্পাত কারখানাগুলো চীন ও এশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। বাজার স্থানান্তর করলেও এ থেকে আর্থিকভাবে খুব বেশি লাভবান হবে না রাশিয়া। কারণ দেশ দুটির মধ্যে দূরত্বের কারণে পণ্য পরিবহনে অত্যধিক ব্যয় হবে।