দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি কমায় ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে পণ্যটির বাজার। তিনদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ১৫ টাকা। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা পাইকাররা এ মূল্যবৃদ্ধিকে আমদানিকারকদের ‘কারসাজি’ বলে অভিযোগ করেছেন। তবে ভারতে দাম বাড়ার কারণে দেশের বাজারেও দাম বাড়াতে হয়েছে বলে দাবি আমদানিকারকদের।
হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারত থেকে ইন্দোর ও সাউথ জাতের পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত। তবে আমদানি অব্যাহত থাকলেও আগের তুলনায় দাম বেশি। তিনদিন আগেও বন্দরে প্রতি কেজি পেঁয়াজ (ট্রাকসেল) প্রকারভেদে ৭০-৮২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এখন তা বেড়ে ৮৫-৯৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে বন্দরে ইন্দোর জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৮৪-৮৫ টাকায়। তিনদিন আগে একই জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকা কেজি দরে। আর প্রতি কেজি সাউথের বেলোরি জাতের পেঁয়াজ ৮২ টাকা থেকে বেড়ে ৯৪-৯৫ টাকায় উঠেছে।
বন্দরে পেঁয়াজ কিনতে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘পেঁয়াজের দাম একদিন কমে তো দুদিন বাড়ে। বেশ কিছুদিন ধরেই বাজার স্থিতিশীল যাচ্ছে না। আমরা গতকাল যে দামে পেঁয়াজ ক্রয় করে মোকামে পাঠিয়েছি, আজ বন্দরে এসে সে দামে পেঁয়াজ কিনতে পারছি না। এতে মোকামগুলোও পেঁয়াজ কিনতে ভয় পাচ্ছে। এ বাড়তি দাম দিয়ে কিনে আবার যদি দাম কমে যায় তখন কী হবে। এ দুশ্চিন্তায় তারাও রয়েছে। সাধারণত বছরের এ সময় পেঁয়াজের দাম কমতির দিকে থাকে। কিন্তু এবার উল্টোটা হচ্ছে।’
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ‘ভারতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। তাছাড়া দেশে ডলার সংকটের কারণে ব্যাংকগুলো আমাদের চাহিদা মতো এলসি দিচ্ছে না। আগে প্রতিদিন ন্যূনতম মার্জিন দিয়ে আমরা এলসি খুলতে পারতাম। এখন নগদ টাকা দিয়ে এমনকি ১২০ ভাগ মার্জিনে সপ্তাহে একটি মাত্র এলসি দিচ্ছে।
সেই সঙ্গে সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে শিলাবৃষ্টি হওয়ায় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে গেছে। এতে ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেড়ে গেছে।’
হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। আগে বন্দর দিয়ে ২৫-৩০ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হলেও বর্তমানে তা কমে ১০-১৫ ট্রাকে নেমেছে।’









