জলবায়ু পরিবর্তন এখন বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। এর অংশ হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোও কয়লানির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। কিন্তু রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে অনেকটা বাধ্য হয়েই দেশটিকে কয়লা বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
জ্বালানি তেল সংকটে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় কয়লার ব্যবহার বন্ধে পরিবেশবাদীদের যে চাপ ছিল তাও কমে গেছে। আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থা প্রকাশিত বার্ষিক কয়লা সমীক্ষা ২০২২-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় গত বছর কয়লার ব্যবহার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে ইইউতে এ হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লানির্ভরতা বাড়ায় ২০২২ সালে এ অঞ্চলে কয়লার ব্যবহার ৪৭ কোটি ৮০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। যেখানে ২০২১ সালে এর পরিমাণ ছিল ৪৪ কোটি ৯০ লাখ টন। ইইউভুক্ত দেশগুলোয় কয়লার উত্তোলন ২০২১ সালে ছিল ৩৩ কোটি ২০ লাখ টন। ২০২২ সালে তা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ৩৫ কোটি ৭০ লাখ টনে পৌঁছায়।
৩০ বছরের ব্যবধানে এ অঞ্চলে কয়লানির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ১৯৯০ সালে ইইউর ৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদন করা হতো। ২০২২ সালে এ হার ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ২০২১ সালে ইউরোপের ৩২৪টি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অর্ধেক কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। ব্রুগেলের তথ্যানুযায়ী, ২০১৫-২০ সালের মধ্যে ইইউ ও যুক্তরাজ্যে কয়লা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪০ শতাংশ কমেছে।
অন্যদিকে যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটে ২০২২ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার ২০ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। সংকটাবস্থা কাটাতে ইইউ অধিভুক্ত অনেক দেশ কয়লা খনি সন্ধানে জোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বর্তমানে বিদ্যমান খনিগুলোয় কয়লা উত্তোলন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও পোল্যান্ডের মতো দেশ কয়লা উত্তোলনে নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ডস, স্পেন, ইতালি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, অস্ট্রিয়াসহ বিভিন্ন দেশ কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর আয়ু বাড়ানোর পাশাপাশি একসময় বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করা এবং উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে জার্মানি ২০৩৮ সাল নাগাদ কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর কার্যক্রম বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু ২০২১ সালে দেশটি কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ সময় ২০৩০ সালে কমিয়ে আনে।
ফ্রান্স তার প্রাথমিক বিদ্যুৎ উপাদন ও বিতরণ কোম্পানি গ্যাজেলএনার্জিকে মোসেলেতে অবস্থিত একটি কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম পুনরায় চালুর নির্দেশ দিয়েছে। জ্বালানি সংকটের কারণে প্রতি ঘণ্টায় মোট ৬০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা উপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কিছু সময়ের জন্য চালু থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।










