ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোয় চিনি উৎপাদন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ অঞ্চলে ক্রমাগত বাড়ছে ভোগ্যপণ্যটির উৎপাদন। মৌসুমের শেষ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকলে চিনির বৈশ্বিক ঘাটতি অনেকটাই কমবে বলে প্রত্যাশা করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
তথ্য বলছে, চলতি বছরের অক্টোবরে ইইউ অঞ্চলে চিনির ২০২১-২২ বিপণন মৌসুম শুরু হয়েছে। আগামী বছরের সেপ্টেম্বরে মৌসুম শেষ হবে। এ মৌসুমে তুলনামূলক ঠাণ্ডা আবহাওয়ার কারণে ইয়েলো ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমেছে। এ কারণে বিট ও আখের ফলন ভালো হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে মৌসুম শেষে কৃষিপণ্যগুলো থেকে চিনি উৎপাদন লক্ষণীয় মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে। তবে নভেল করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রন এক্ষেত্রে কিছু উদ্বেগ তৈরি করেছে। চিনির বৈশ্বিক ব্যবহারের ওপর ধরনটি কেমন প্রভাব ফেলে, তার ওপর নজর রাখছে না বাজার পর্যবেক্ষকরা।
বাজার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছরের শুরু থেকেই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে ব্রাজিলের চিনি শিল্প। শীর্ষ উৎপাদক হওয়ায় এমন বিপর্যয় বিশ্ববাজারকে চাপের মুখে ফেলে। সংকুচিত হতে শুরু করে পণ্যটির সরবরাহ। এ কারণে লাফিয়ে বাড়তে থাকে দাম। চলতি বছর উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিলেও তা বৈশ্বিক ঘাটতি পূরণে সক্ষম হবে না। এক্ষেত্রে আশার আলো দেখাচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ঘাটতি পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে ভারত ও থাইল্যান্ডও।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্ল্যাটসের তথ্য অনুযায়ী, চার বছরের ২০২১-২২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাড়তে যাচ্ছে ইইউ অঞ্চলের চিনি উৎপাদন। মূলত ব্রাজিলের পিছিয়ে পড়ার সুযোগ নিতেই অঞ্চলটি উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়াচ্ছে।
গ্লোবাল প্ল্যাটসের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে ইইউ ও যুক্তরাজ্যের সম্মিলিত চিনি উৎপাদন ১ কোটি ৭৪ লাখ ৯৫ হাজার টনে পৌঁছতে পারে। গত মৌসুমে উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৫৫ লাখ ৬৫ হাজার টন। উৎপাদন বৃদ্ধি বৈশ্বিক ঘাটতি কমাতে বড় অবদান রাখবে।
ইন্টারন্যাশনাল সুগার অর্গানাইজেশন (আইএসও) সম্প্রতি এক পূর্বাভাসে জানায়, ২০২১-২২ মৌসুমে আন্তর্জাতিক বাজারে চিনি ঘাটতি ২৫ লাখ ৫০ হাজার টনে নামবে। এর আগের পূর্বাভাসে একই সময়ের জন্য ৩৮ লাখ ৫০ হাজার টন ঘাটতির কথা জানিয়েছিল আইএসও।
এদিকে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও মৌসুমের মাত্র তিন মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। ফলে গত মৌসুমের মজুদ ঘাটতি এখনো কাটেনি। এ কারণে স্থানীয় বাজারে চিনির দাম রেকর্ড উচ্চতায় অবস্থান করছে। এছাড়া ঊর্ধ্বমুখী উৎপাদন ব্যয়ও দাম বাড়াতে সহায়তা করছে।
প্রান্তিকভিত্তিক বাজার প্রতিবেদনে আইএসও জানায়, ২০২১-২২ মৌসুমে বিশ্বজুড়ে ১৭ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার টন চিনি ব্যবহার হবে। এটি আগস্টে দেয়া পূর্বাভাসের তুলনায় ১৪ লাখ ৪০ হাজার টন কম।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন আগের পূর্বাভাসের তুলনায় ১ লাখ ৮৫ হাজার টন কমে ১৭ কোটি ৭ লাখ ৭০ হাজার টনে নামতে পারে। মৌসুম থেকে ভোগ্যপণ্যটির মজুদ কমে ৯ কোটি ৩২ লাখ ৫০ হাজার টনে দাঁড়াবে। গত মৌসুমে মজুদের পরিমাণ ছিল ৯ কোটি ৬৭ লাখ ৪০ হাজার টন।










