সিঙ্গাপুরে বেকারত্ব নিম্নমুখী রয়েছে। আগস্টে নগররাষ্ট্রটির বেকারের হার ছয় বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জনশক্তি মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক স্থবিরতার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে। এ ঝুঁকির কারণে দেশটির শ্রমবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

স্ট্রেইটস টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামগ্রিক বেকারত্ব গত আগস্টে ১ দশমিক ৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এ সময়ে দেশটির বিদেশী বাসিন্দাদের বেকারত্ব ২ দশমিক ৭ শতাংশে এবং নাগরিকদের বেকারত্ব ২ দশমিক ৮ শতাংশে নেমেছে।

মন্ত্রণালয়টির মাসিক বেকারত্ব পরিস্থিতির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাইয়ে এ তিনটি হারের সবগুলোই ছিল দশমিক ২ শতাংশীয় পয়েন্টের নিচে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে যে আগস্টে বাসিন্দাদের মধ্যে ৬৪ হাজার ৮০০ জন বেকার ছিলেন। নাগরিকদের মধ্যে বেকারের সংখ্যা ছিল ৫৭ হাজার।

আগস্টের বেকারত্ব দেশটির ইতিহাসে ২০১৬ সালের মার্চের পর সর্বনিম্ন।

২০২০ সালের মধ্যভাগ পর্যন্ত বেকারত্বের এ পরিসংখ্যান প্রান্তিকভিত্তিক প্রকাশ করা হতো। তখন মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছিল, আরো বেশি নিবিড়ভাবে কভিড-১৯ মহামারীকালীন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। মন্ত্রণালয় সামনের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছিল। যেহেতু আগের মাসের চেয়ে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খারাপ হতে দেখা গিয়েছে। পর্যটন খাত ব্যাহত হওয়ার কারণে নিয়োগ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল।

জনশক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে বেকারত্ব মহামারী-পূর্ব স্তরের তুলনায় কম। তবে নির্মাণ কার্যক্রম সংকোচনের ঝুঁকি, মূল্যস্ফীতি ও সুদহার বৃদ্ধি শ্রমবাজারের পরিস্থিতি দুর্বল করতে পারে। মহামারী আঘাত হানার আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে গড় বেকারত্ব হার সামগ্রিকভাবে ২ দশমিক ২ শতাংশে ছিল। বিদেশী বাসিন্দাদের মধ্যে ৩ শতাংশ এবং নাগরিকদের মধ্যে ৩ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ বেকার ছিল।

আগস্টে সিঙ্গাপুরের শিল্পোৎপাদন মাত্র দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া গত মাসে নির্মাণ কার্যক্রমের সূচক (পিএমআই) দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সংকুচিত হয়েছে। এ খাতগুলোর এমন নিম্নমুখী প্রবণতা বেকারত্ব বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক বিশ্লেষক।