অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজ সংকটে লাগামহীন দাম মোকাবেলায় এরই মধ্যে তুরস্ক ও মিসর থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানি করেছে ভারত সরকার। এছাড়া বেসরকারি পর্যায়েও বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি অব্যাহত রয়েছে। এর পরও বাজার স্থিতিশীল না হওয়ায় আবার তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করতে যাচ্ছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান এমএমটিসি। প্রতিষ্ঠানটি তুরস্ক থেকে সাড়ে ১২ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করতে এরই মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করেছে। আগামী জানুয়ারির মাঝামাঝি এসব পেঁয়াজ ভারতে পৌঁছতে পারে। খবর বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড।

ভারতের প্রধান প্রধান রাজ্যে এখন পেঁয়াজের কেজি গড়ে ১০০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া কিছু কিছু অঞ্চলে ১৬০ রুপিতেও বিক্রি হচ্ছে। রাজধানী দিল্লিতে এরই মধ্যে মসলা পণ্যটির দাম কেজিপ্রতি ১১৮ রুপি ছাড়িয়েছে।

এমএমটিসির এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, তুরস্ক থেকে সাড়ে ১২ হাজার পেঁয়াজ মিলে এ মৌসুমে এখন পর্যন্ত সরকারের পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ দাঁড়াবে ৪২ হাজার ৫০০ টনে।

শীর্ষ পেঁয়াজ রফতানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও গত সেপ্টেম্বর থেকে দেশটির বাজারে মসলা পণ্যটির সংকট শুরু হয়। ভারি বৃষ্টিতে আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। পেঁয়াজের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে দেশটির ভোক্তাবিষয়ক বিভাগের অধীনস্থ স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড ম্যানেজমেন্ট কমিটি (পিএসএফএমসি) কাজ করছে। এ কমিটির নির্দেশেই তুরস্ক থেকে পেঁয়াজ আমদানি করছে এমএমটিসি।

এমএমটিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তুরস্কের সঙ্গে করা আগের চুক্তির প্রায় ১২ হাজার টন পেঁয়াজ ডিসেম্বরের মধ্যেই ভারতে পৌঁছাতে পারে। এসব পেঁয়াজ আসার পর সেগুলো বিভিন্ন রাজ্যের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা হবে। আমদানি করা এসব পেঁয়াজ অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট মোকাবেলা করে দাম কমিয়ে আনতে সক্ষম হবে বলেও আশা প্রকাশ করে সরকারি প্রতিষ্ঠানটি।

উল্লেখ্য, ২০১৯-২০ উৎপাদন বছরে ভারতে খরিপ ও খরিপ-পরবর্তী পেঁয়াজের উৎপাদন গত বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বছর দেশটিতে দেরিতে বৃষ্টিপাত এবং পরে ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ায় পেঁয়াজের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই কারণে দেশটির বাজারে নতুন পেঁয়াজ উঠতেও কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আর তাতেই চাঙ্গা হয়েছে অভ্যন্তরীণসহ আন্তর্জাতিক বাজার।