যদিও এ সময়ে কোম্পানিটির নিট লোকসানের পরিমাণ বেড়েছে ৬০ শতাংশ। মূলত পরিচালন ও সুদ বাবদ ব্যয় বাড়ার কারণেই আগের তুলনায় বিক্রি বাড়া সত্ত্বেও কোম্পানিটির লোকসান বেড়েছে। সিঙ্গার বাংলাদেশের চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এ তথ্য জানা গেছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে সিঙ্গার বাংলাদেশের বিক্রি হয়েছে ৫৭৭ কোটি টাকা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৫৫৮ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে আগের প্রান্তিকের তুলনায় কোম্পানিটির পরিচালন ব্যয় প্রায় ৮ কোটি ও সুদ ব্যয় প্রায় ২২ কোটি টাকা বেড়েছে। এতে চলতি হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির প্রায় ৫৬ কোটি টাকার কর-পরবর্তী নিট লোকসান হয়েছে, আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল প্রায় ৩৫ কোটি টাকা। আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫ টাকা ৬০ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই প্রান্তিকে যা ছিল ৩ টাকা ৫০ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ দায় দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৯১ পয়সায়।
কোম্পানির এ আর্থিক ফলাফল চলমান কৌশলগত বিনিয়োগের প্রেক্ষাপটে দেখা উচিত বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। এতে বলা হয়েছে, আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানিটি মোট মুনাফা ও পরিচালন মুনাফা স্থিতিশীল রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে আর্থিক ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে নিট লোকসান হয়েছে। বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনে অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানা স্থাপন, নিজস্ব এয়ার কন্ডিশনার উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং রফতানি বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে সিঙ্গার বাংলাদেশ একটি দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই প্রবৃদ্ধির ভিত্তি রচনা করছে।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি সিঙ্গার বাংলাদেশের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে ২২৪ কোটি ৯৩ লাখ টাকা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪৮ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাব বছরে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ২২ টাকা ৫৬ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৪ টাকা ৯১ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৬৯ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে সিঙ্গার বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৪ টাকা ৯১ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) ছিল ৫ টাকা ২৪ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২৫ টাকা ৮১ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৩৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটি। আলোচ্য হিসাব বছরে সিঙ্গার বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৫ টাকা ২৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৩৪ টাকা ৩ পয়সায়।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২২ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে সিঙ্গার বাংলাদেশ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৭৩ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৫ টাকা ২০ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২২ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়ায় ২৯ টাকা ৯৭ পয়সায়।
১৯৮৩ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সিঙ্গার বাংলাদেশের অনুমোদিত মূলধন ২৫০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ৯৯ কোটি ৭০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান ৭৭ কোটি ১৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ৯ কোটি ৯৭ লাখ ২ হাজার ৮৩৮। এর ৫৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৯ দশমিক ২২ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে বাকি ১৩ দশমিক ৭৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।










