আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সুদহার অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় আরো সময় নেয়ার পাশাপাশি ২০২৪ সালে হার বাড়াতে হবে কিনা তা নির্ধারণেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। খবর রয়টার্স।
ডিসেম্বরের নীতিনির্ধারণসংক্রান্ত বৈঠক শেষে রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া (আরবিএ) সুদহার ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ নির্ধারণ করেছে, যা দেশটির ইতিহাসে ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নভেম্বরে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, সুদহার আরো কোয়ার্টার পয়েন্ট বাড়ানো হয়েছে।
অন্যদিকে অক্টোবরে প্রত্যাশিত মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে আসার কারণে সুদহার কমানো হবে এমন প্রত্যাশা করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। আরবিএর গভর্নর মাইকেল বুলক বলেন, ‘ক্যাশ রেট নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে এ বৈঠকের মাধ্যমে চাহিদা, মূল্যস্ফীতি ও শ্রমবাজারে সুদহারের প্রভাব পর্যালোচনা করা যাবে।’
তিনি আরো জানান, ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রাপ্ত তথ্য পর্যালোচনা শেষে সুদহার বাড়বে না কমবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। ফেব্রুয়ারিতে পুনরায় বৈঠক করবে রিজার্ভ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এর আগে সুদহার বাড়ানোর শেষ সুযোগ ছিল এটি। এছাড়া বড়দিনের আগে বন্ধকি সম্পত্তির মালিকদের জন্য এটি ইতিবাচক হতো। যাদের মধ্যে অনেককে ক্রমবর্ধমান জীবনযাপন ব্যয়ের মধ্যে প্রতি মাসে ৬৬২ ডলারের বেশি পেমেন্ট দিতে হয়।
ব্রিটিশ বহুজাতিক ব্যাংক বারক্লেসের এক বিশ্লেষক জানান, এ বিবৃতির মাধ্যমে যেটি প্রতীয়মান হয় তা হলো তাদের পূর্বাভাস নভেম্বরের তুলনায় এমনকি অনুমানের তুলনায় কম মিলেছে। হয়তো সুদহার আর বাড়ানো হবে না। তবে ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চতুর্থ প্রান্তিকের মূল্যস্ফীতির কারণে হার বাড়ানো হতে পারে। জানুয়ারির আগে অবশ্য চতুর্থ প্রান্তিকের তথ্য পাওয়া সম্ভব না।
মাইকেল বুলক কিছু পাবলিক কমেন্টে জানান, অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। যে কারণে সুদহার নির্ধারণে আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। অর্থনীতিবিদদের মতে, ২০২৫ সালের আগে দেশটির মূল্যস্ফীতির হার ব্যাংক নির্ধারিত ২-৩ শতাংশে নেমে আসার সম্ভাবনা নেই।
অক্টোবরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে আরবিএ জানায়, এ সময় মূল্যস্ফীতি প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটা কমে এসেছে। ব্যাংকটির আশা, গত প্রান্তিকে মজুরি দ্রুতগতিতে বাড়লেও এখন থেকে তা স্বাভাবিক থাকবে। এছাড়া শ্রমবাজার শক্ত অবস্থানে থাকবে। মে মাসের পর থেকে এখন পর্যন্ত সুদহার ৪২৫ বেসিস পয়েন্ট বেড়েছে। তবে কর্মসংস্থানের সুযোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় সুদহার তুলনামূলকভাবে কম বেড়েছে।
বাজারগুলোর প্রত্যাশা, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ও ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার উল্লেখযোগ্য হারে কমাবে, যা ১০০ বেসিস পয়েন্টের বেশি।










