বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও চাঙ্গা রয়েছে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ফিনটেক খাতে বিনিয়োগ। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) খাতটিতে বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৯০ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাপী ফিনটেক খাতের উল্লেখযোগ্য অবনমন ঘটলেও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল চুক্তির সংখ্যা ও বিনিয়োগের আকারের দিক থেকে যথেষ্ট শক্তিশালী বলে দাবি করেছে মার্কিন ক্রেডিট রেটিং প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। খবর দ্য স্ট্রেইটস টাইমস।
ফাইন্যান্সিয়াল টেকনোলজি বা ফিনটেক বলতে এমন সফটওয়্যার, মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন কিংবা প্রযুক্তিকে বোঝানো হয়, যার মধ্য দিয়ে ব্যবসায়িক লেনদেন সম্পাদন করা যায়। এশীয় অঞ্চলে গত এক দশকে লেনদেনের জনপ্রিয় মাধ্যমে পরিণত হয়েছে ফিনটেক। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারত ও সিঙ্গাপুরের ডিজিটাল লেনদেন মাধ্যম হিসেবে ইউনিফায়েড পেমেন্ট ইন্টারফেস (ইউপিআই) ও পে-নাউ সংযুক্ত হয়। একই মাসে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান ফোনপে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে দেয়া শুরু করে আন্তর্জাতিক পরিষেবা। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বিপুল জনসংখ্যা ও বাজার সম্ভাবনাকে বিবেচনায় নিয়ে আগ্রহী হয়ে উঠছেন বিনিয়োগকারীরা।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রতিবেদন অনুসারে, ফিনটেক খাতে বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগ চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ৩৬ শতাংশ কমে ৬০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। চুক্তি ৩৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮৪টিতে। ২০২১ সালের পর খাতটিতে এতটা কম চুক্তি কোনো প্রান্তিকে হয়নি। এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে সে অর্থে অবনমন ঘটেনি।
চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে বৈশ্বিক বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯০০ কোটি ডলার। ২০২২ সালের একই সময়ে বিনিয়োগ ছিল ৫ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। খাতটিতে চুক্তি হয়েছে ১ হাজার ৬৫৫টি, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ফিনটেক বিশ্লেষক সাম্পাথ শর্মা নারিয়ানুরি জানান, বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছে। অথচ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলোই ফিনটেক খাতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের ভূমিকা পালন করেছে আগের বছর। মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদহার ও অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার ঝুঁকির চাপ তারা আপাতত নিতে চাচ্ছেন না। তবে ফিনটেক খাতের আঞ্চলিক সূচক অনেকটাই স্থিতিস্থাপক। তার প্রধান কারণ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোর সেখানে প্রতিযোগিতা কম। তাছাড়া সব অঞ্চলের সম্ভাবনাও অনেক বেশি।
নারিয়ানুরি বলেন, ‘ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলোর জন্য এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোয় অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। অনুকূল নীতিমালার পাশাপাশি রয়েছে আয়ের নিশ্চয়তা। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপগুলোর জন্য সেখানে কাজ করার জায়গা রয়েছে।’
চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ফিনটেক খাতে বৈশ্বিক মোট বিনিয়োগের অর্ধেকের বেশি ছিল সিঙ্গাপুর, যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও ভারত। তবে সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগের আকারে কিছুটা অবনমন ঘটেছে। দেশটিতে ফিনটেক খাতে বছরের প্রথম নয় মাসে ৬৯টি চুক্তি হয়েছে। বিনিয়োগ এসেছে ১১৫ কোটি ডলার। ২০২২ সালের একই সময়ে চুক্তি হয়েছিল ৯২টি। বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল ১৭৭ কোটি ডলার।
বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীরা পরিণত স্টার্টআপগুলোয় বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পরিণত স্টার্টআপে মোট ৪৪টি চুক্তি হয়েছে, যেখানে বিনিয়োগের মোট পরিমাণ ছিল ২৫৬ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এটি ৩০ শতাংশ বেশি। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে থাকা স্টার্টআপগুলোয় বিনিয়োগের আকার কমেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ফিনটেক স্টার্টআপে আগ্রহী হয়ে উঠছে ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলো। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে খাতটিতে ৩৮টি চুক্তি হয়েছে। বিনিয়োগ এসেছে ৬৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। অন্যদিকে বছরের প্রথমার্ধে ৬০টি চুক্তিতে মোট বিনিয়োগ হয়েছে ১০০ কোটি ডলার। নারিয়ানুরি দাবি করেছেন, বৈশ্বিক ফিনটেক খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়েছে। কয়েক প্রান্তিক ধরেই এ শ্লথগতি চলতে থাকবে। তহবিলের পরিমাণ বাড়লেও চুক্তির সংখ্যা কমতে থাকবে। তিনি বলেন, ‘যদি ফিনটেক স্টার্টআপ খাতে বিনিয়োগের আকার বাড়তে থাকে তাহলে খাতটি আরো শক্তিশালী হবে।’










