ফেব্রুয়ারিতে অপরিশোধিত ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে এক মাসের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে ৮ শতাংশ। সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ওয়ার্ল্ড স্টিল প্রতি মাসেই ৬৪টি শীর্ষ দেশের ইস্পাত উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। গত মাসে এসব দেশে মোট ১৪ কোটি ২৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে উৎপাদন হয়েছিল ১৫ কোটি ২ লাখ টন। অন্যদিকে চলতি বছরের জানুয়ারিতে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৫০ লাখ টন।

গত মাসে উৎপাদন কমায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে চীন। এ সময় দেশটি ৭ কোটি ৫০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে। অথচ গত বছরের একই সময় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৩০ লাখ টন। শুধু তাই নয়, চলতি বছরের জানুয়ারির তুলনায়ও উৎপাদন কমেছে। ওই মাসে দেশটি ৮ কোটি ১৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছিল। এ নিয়ে টানা আট মাসের মতো চীনে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমল। গত বছরের ডিসেম্বর ও চলতি বছরের জানুয়ারিতে যে পরিমাণ ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল, ফেব্রুয়ারিতে সে তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ ছিল অনেক কম।

উৎপাদন কমার অন্যতম একটি কারণ হতে পারে সপ্তাহব্যাপী সৌরবর্ষের ছুটি। তবে আরো বেশকিছু বিষয় এতে ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে রয়েছে কভিড-১৯ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রবাহ বৃদ্ধি, কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবেলা।

চলতি মাসেও ইস্পাত উৎপাদন নিম্নমুখী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ দেশটি মহামারী নিয়ন্ত্রণে ধাতুটির উৎপাদন সীমিত রাখার সিদ্ধান্তে অটল। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি ১৫ কোটি ৮০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ১০ শতাংশ কমেছে।

এদিকে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক দেশ ভারতে ১ কোটি ১ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। এক বছরের ব্যবধান উৎপাদন বেড়েছে ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। তবে জানুয়ারি ও ডিসেম্বরের তুলনায় উৎপাদন কমেছে। জানুয়ারিতে ১ কোটি ৮ লাখ ও ডিসেম্বরে ১ কোটি ৪ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছিল। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে ভারত ২ কোটি ৯ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

জাপান বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক দেশ। ফেব্রুয়ারিতে দেশটি ৭৩ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে। এক বছরের ব্যবধানে দেশটির উৎপাদন কমেছে ২ দশমিক ৩ শতাংশ। জানুয়ারির তুলনায় উৎপাদন কমেছে পাঁচ লাখ টন। চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি ১ কোটি ৫১ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ২ শতাংশ কম।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৪ লাখ টন বেড়ে ৬৪ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে। তবে জানুয়ারির তুলনায় উৎপাদন কমেছে। ওই মাসে দেশটি উৎপাদন করেছিল ৭৪ লাখ টন। এছাড়া বছরের প্রথম দুই মাসে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

ইউক্রেনে হামলার কারণে ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইস্পাত উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫৮ লাখ টনে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৪ শতাংশ কম। বছরের প্রথম দুই মাসে দেশটি ১ কোটি ২৪ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উৎপাদন ১ শতাংশ বেড়েছে।