চলতি মৌসুমে নাটকীয়ভাবে মুনাফার হার কমতে দেখেছেন রাশিয়ার কৃষক। পশ্চিমা প্রযুক্তির অভাব, অতিরিক্ত যন্ত্রাংশ ও বীজ, লজিস্টিকস ও শ্রমিক সংকটের কারণে তারা বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন। লম্বা সময় ধরেই দেশটির খাদ্যশস্য খাত ব্যাপক অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে সময় পার করছে। এ খাতে প্রধান সমস্যাগুলো ভবিষ্যতে আরো প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন ডটকম। 

রাশিয়ার গম খাতে ২০২৩ সালে গড় লাভের হার গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া ২০২০-২১ মৌসুমের তুলনায় কমবে প্রায় তিন গুণ। বাজার পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জ্যাকব অ্যান্ড পার্টনারসের এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৩-২৪ মৌসুমে অর্থনৈতিক জটিলতা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করবে। এ সময় গম উৎপাদন ১৩ থেকে ১৯ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে আগেই ব্যবসার পরিসর কমিয়ে আনছেন কৃষক ও সংশ্লিষ্টরা। 

এক জরিপে ৯৬টি রুশ খাদ্যশস্য কোম্পানির ব্যবস্থাপকরা জানান, বর্তমানে এ খাতের সবচেয়ে বড় সমস্যা ওয়্যারহাউজে খাদ্যশস্যের মজুদ। গত মৌসুমে বিপুল পরিমাণ খাদ্যশস্য উৎপাদন হয়। এসব খাদ্যশস্য নিয়ে বিপদে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

ইউক্রেনে হামলা প্রতিক্রিয়ায় রাশিয়ার অর্থনীতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ন্যাটো। ফলে খাদ্যশস্য রফতানিতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। ব্যাপক উৎপাদন সত্ত্বেও রফতানি করতে না পারায় গুদামেই পড়ে আছে খাদ্যশস্য। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর দাবি, মজুদাগার ও পরিবহন সক্ষমতার অভাবে অনেক শস্যই নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। 

বর্তমান দাম অনুযায়ী, ২৬ হাজার কোটি রুবল বা ৩৪০ কোটি ডলারের খাদ্যশস্য বর্তমানে বিপজ্জনক অবস্থায় আছে। এসব শস্যের বেশির ভাগই মজুদাগার সংকটে নষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করছেন জ্যাকব অ্যান্ড পার্টনারসের বিশ্লেষক অ্যালেক্সি পোরোস্কিন। 

তিনি বলেন, সংখ্যাটা আরো বড় হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রাশিয়াকে প্রতি মাসে অন্তত ৪০ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি করতে হবে, যা নিষেধাজ্ঞাপূর্ব অবস্থার চেয়ে তুলনামূলক বেশি। 

রাশিয়ান কৃষকরা জানান, বর্তমানে শ্রমিক সংকট একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ সমস্যা মূলত প্রকট আকার ধারণ করে গত বছরের সেপ্টেম্বরে। তখন রুশ সরকার বাধ্যতামূলক যুদ্ধে যোগদানের আদেশ দিলে দেশজুড়ে বিক্ষোভ দানা বাঁধে। সে সময় তিন লাখ মানুষ রাশিয়ান সামরিক বাহিনীতে যোগ দেয়। পাঁচ থেকে এক লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে যায়।

এদিকে যেসব কৃষি উপকরণ আমদানি করতে হয়, সেগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কৃষকরা। উচ্চ মানসম্পন্ন বীজের সংকটও রয়েছে। শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, এখন কৃষকরা উচ্চ ফলনসম্পন্ন গম ও যবের বীজ পাচ্ছেন না। আবার কিছু শস্যের চাহিদা আমদানির মাধ্যমে ‍পূরণ করাও সম্ভব নয়। 

রাশিয়ান গ্রেইন ইউনিয়ন জানায়, রাশিয়ায় ২০২৩ সালে খাদ্যশস্য উৎপাদন ১২ কোটি টনে নেমে যেতে পারে। গত বছর উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৩০ লাখ টন। প্রযুক্তিগত কিছু সমস্যার কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে গমের দামও অনেক কমে গেছে। শুল্কের কারণে রফতানি থেকেও ভালো মুনাফা তুলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা।