ইস্পাত তৈরির অন্যতম কাঁচামাল আকরিক লোহা। ভারতে ধাতুটির সরবরাহ সংকট দেখা দিয়েছে। বাড়তে শুরু করেছে দাম। এ পরিস্থিতিতে ব্যবহারিক ধাতুটির রফতানিতে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভারতীয় ইস্পাত উৎপাদনকারীরা। তাদের দাবি, আগে নিজস্ব প্রয়োজন মেটাতে হবে। ইস্পাত উৎপাদন খাতকে কাঁচামাল সংকটের মুখে রেখে আকরিক লোহা রফতানি করা যাবে না। খবর বিজনেস লাইন।

করোনাকালে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে ভারতের আকরিক লোহার খনিগুলো। লকডাউনে ওড়িশার ১৯টি খনির মধ্যে মাত্র পাঁচটি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পেরেছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যবহারিক ধাতুটির উত্তোলনে। ২০২০-২১ অর্থবছরের এপ্রিল-সেপ্টেম্বর সময়ে ভারতে সাকল্যে ৪ কোটি ৭০ লাখ টন আকরিক লোহা উত্তোলন হয়েছে। একই সময়ে ভারত থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ২ কোটি ২০ লাখ টন আকরিক লোহা রফতানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি।

ভারতীয় ইস্পাত উৎপাদনকারীদের দাবি, একদিকে উৎপাদন সীমিত হয়ে আসা, এর বিপরীতে রফতানিতে প্রবৃদ্ধি—এ দুইয়ের জের ধরে ভারতে বাড়তির পথে রয়েছে আকরিক লোহার দাম। ফলে ইস্পাত উৎপাদনে ব্যয় বাড়তে শুরু করেছে। করোনার কারণে আগে থেকে উৎপাদন হ্রাসের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে ভারতের ইস্পাত শিল্প। এর মধ্যে কাঁচামাল সংকট থেকে উৎপাদন ব্যয় বাড়লে লোকসানে পড়তে পারে রফতানিমুখী শিল্পটি। এ পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তাদের দাবি, আকরিক লোহা রফতানি সাময়িক বন্ধ রাখা হোক। অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পর প্রয়োজনে ব্যবহারিক ধাতুটি রফতানি করা যাবে।