কভিড-১৯ মহামারীতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া শিল্পগুলোর একটি এভিয়েশন খাত। মহামারীর ধাক্কায় উড়োজাহাজ বিক্রিতে ভাটা পড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর। একই দশা ব্রাজিলের উড়োজাহাজ নির্মাতা এমব্রেয়ারের। কভিডের ধাক্কা সামলে মুনাফায় ফেরার আশা করছে এমব্রেয়ার এসএ। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির ক্রয়াদেশ বেড়েছে। ক্রয়াদেশের সংখ্যা বর্তমান অর্থবছরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।

কভিড মহামারীতে এমব্রেয়ার এসএর আয় ব্যাহত হয়। বিধিনিষেধের কারণে বন্ধ হয়ে যায় উড়োজাহাজ বিক্রি। এছাড়া মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা সংস্থা বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক বিভাগের সঙ্গে একটি চুক্তিও ব্যর্থ হয়। এতে করে লোকসানের মাত্রা আরো বাড়ে এমব্রেয়ারের। ফলে কয়েক বছর ধরেই নানা প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয় এমব্রেয়ার।

তবে লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এমব্রেয়ার। বিধিনিষেধ শিথিল হতেই বিক্রির ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৪৫০-৫০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আন্তোনিও কার্লোস গার্সিয়া জানান, এরই মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের যথেষ্ট ক্রয়াদেশ পেয়েছে এমব্রেয়ার। এখন অংশীদারদের সঙ্গে মিলে উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে আমরা কতটুকু সক্ষম সেটাই দেখার বিষয়। ৫০০ কোটি ডলার আয়ের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রয়াদেশ আমাদের আছে। আমরা বাজার প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করি সবসময়। গত বছরও তাই করেছি আমরা।

এদিকে প্রতিষ্ঠানের ২০২৩-২৬ সালে প্রবৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা মূলত কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভরশীল বলে মন্তব্য করেছেন এমব্রেয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফ্রান্সিসকো গমেস নেটো। এর মধ্যে রয়েছে মজুদের ব্যবহার বাড়ানো ও পণ্যের দাম কমানো। এদিকে প্রতিষ্ঠানের পণ্য বিক্রির সংখ্যা তিন গুণে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নগদ অর্থায়ন আরো বাড়ানোর লক্ষ্য সংস্থাটির। ফলে এ অর্থ দিয়ে আরো কয়েকটি প্রকল্পে অর্থায়ন করার প্রত্যাশা এমব্রেয়ার এসএর। আগামী বছরের মধ্যে ইনভেস্টমেন্ট গ্রেড ক্রেডিট রেটিং বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদী প্রতিষ্ঠানটি।