ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রফতানি এর আগের মাসের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কমেছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, এক মাস ধরে টেক্সাসের ফ্রিপোর্ট এলএনজি প্লান্ট বন্ধ থাকায় রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এলএসইজি এ তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র গত বছর রেকর্ড পরিমাণ এলএনজি রফতানি করেছিল। এর মধ্য দিয়ে দেশটি কাতার ও অস্ট্রেলিয়াকে পেছনে ফেলে রফতানিকারক দেশগুলোর তালিকায় প্রথম স্থানে উঠে আসে। চলতি বছরও দেশটি এ অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্য বলছে, জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ৮৩ লাখ টন এলএনজি রফতানি করেছিল। ফেব্রুয়ারিতে রফতানি ৭৭ লাখ ৩০ হাজার টনে নেমে যায়।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, টেক্সাসে ফ্রিপোর্ট এলএনজির তিনটি তরলীকরণ প্লান্টের একটিতে সংকটের কারণে রফতানি নিম্নমুখী হয়ে পড়ে। ইলেক্ট্রিক মোটরের সমস্যার কারণে প্রায় এক মাস ধরে প্লান্টটি বন্ধ।
কোম্পানিটি জানিয়েছে, আগামী আরো দুই সপ্তাহ এটি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বন্ধ থাকতে পারে। ফলে চলতি মাসেও রফতানি নিম্নমুখী প্রবণতায় থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান টিউডর পিকারিং হল্ট জানায়, গত সপ্তাহে এলএনজি প্লান্টগুলোয় প্রাকৃতিক গ্যাস সররবাহের পরিমাণ ছিল দৈনিক ১ হাজার ৩৯০ ঘনফুট। বর্তমানে প্লান্টগুলোয় ৯৫ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে, যা জানুয়ারির শেষ দিকে ছিল ৯৭ শতাংশ।
এলএসইজির দেয়া তথ্যমতে, ফের ইউরোপের বাজারে এলএনজি সরবরাহে নেতৃস্থানীয় হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। অঞ্চলটির এলএনজি বাজারে সবচেয়ে বড় হিস্যা এখন যুক্তরাষ্ট্রের। এছাড়া এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয়ও বিপুল পরিমাণ এলএনজি রফতানি করছে যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়া ২০২২ সালে রাশিয়া থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি কমিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইউরোপ। বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বাড়ানো হয়। গত বছর ইউরোপের এলএনজি আমদানির অর্ধেকই এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে।
গত মাসে অঞ্চলটিতে ৪৬ লাখ ২০ হাজার টন এলএনজি রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র। আগের মাসের তুলনায় রফতানি প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ টন কমেছে। তবে এশিয়ায় রফতানি হিস্যা বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে এ অঞ্চলে ১৯ লাখ ৬০ হাজার টন রফতানি করা হয়। রফতানি বেড়েছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোয়ও।










