পর্যটন খাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই, আবুধাবি ও শাহজার মতো ঝলমলে শহর থেকে পিছিয়ে নেই রাস আল খাইমা (আরএকে)। ২০৩০ সাল নাগাদ এ অঞ্চলের প্রিমিয়াম ও লাক্সারি হোটেল রুমের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় বেড়ে দাঁড়াবে তিন গুণ। একই সময়ে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে ২৫ হাজার ২০০টি। সম্প্রতি খাতসংশ্লিষ্ট স্টিরলিং হসপিটালিটি অ্যাডভাইজার্সের ‘রাস আল খাইমা ইনভেস্টমেন্ট পালস’ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
এ বিষয়ে স্টিরলিং হসপিটালিটি অ্যাডভাইজার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাতিয়ানা ভেলার জানান, অঞ্চলটিতে হোটেল শিল্পে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। এজন্য গুণমানসম্পন্ন কর্মীদের আকর্ষণ ও ধরে রাখা অপরিহার্য। প্রতিযোগিতামূলক বেতন, ব্যাপক সুবিধা, জীবনযাত্রার মান, আবাসন এবং কর্মজীবনে অগ্রগতির সুযোগ রাখলে তাদের ধরে রাখা যায়।
ইউএইর অর্থনীতি বৈচিত্র্যকরণ নীতি বাস্তবায়নে রাস আল খাইমার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। দেশটির অন্য অঞ্চলের মতো এখানেও ২০৩০ সাল মেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে। দশকের শেষ নাগাদ আরএকের জিডিপি প্রবৃদ্ধি এখনকার তুলনায় ৮০ শতাংশ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০৩০ সালে অঞ্চলটির জনসংখ্যা ৪ লাখ থেকে ৫৫ শতাংশ বেড়ে ৬ লাখ ২০ হাজারে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সাম্প্রতি গবেষণা অনুসারে, রাস আল খাইমার আতিথেয়তা খাতে নিযুক্ত কর্মীদের ৮৮ শতাংশই নন-ম্যানেজমেন্ট বিভাগে কাজ করেন। তাদের বড় একটি অংশ ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, নেপাল ও ফিলিপাইন থেকে আসা।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, উচ্চ প্রশিক্ষিত কর্মীদের ক্ষেত্রে এ অঞ্চলে বেশকিছু সুযোগ রয়েছে। তাদের ব্যক্তিগত আয়কর দিতে হয় না। এছাড়া আবাসন ব্যবস্থা ও উন্নত জীবনমানের কারণে এখানে কর্মসন্তুষ্টি বেশি বলে জানানো হয়।
বর্তমানে রাস আল খাইমার ৭৭ শতাংশ হোটেলই চার ও পাঁচ তারকা মানের। অর্থাৎ বিলাসবহুল হোটেল ও পরিষেবার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে আছে অঞ্চলটি। এ খাতে সার্বক্ষণিক নিযুক্ত এমন ৮৫ শতাংশ কর্মীই চার বা পাঁচ তারকা মানের হোটেলে কাজ করে থাকেন।
কর্মীদের পাশাপাশি ব্যবসা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে ইউএইর এই এমিরেটে বিশেষ সুযোগ রয়েছে। এখানে দেশটির জাতীয় স্তরের চেয়ে পরিচালন খরচ, করপোরেট করহার ও কর্মী খরচ কম। রাস আল খাইমায় দুবাইয়ের তুলনায় মধ্য ও উচ্চ পর্যায়ের ম্যানেজমেন্টে পারিশ্রমিক ৫-১৫ শতাংশ পর্যন্ত কম। অন্যদিকে নিচের সারির কর্মীদের বেতনে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কম খরচ হয়।
ইউএইর আর্থিক ও ব্যবসা নীতিগুলো বিদেশী বিনিয়োগকারী ও পেশাজীবীদের লক্ষ্য করে প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়া দেশটির বিনোদন ও পর্যটন খাতে পরিষেবা এখন আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিষ্ঠিত। এসব খাতে বিভিন্ন দেশের অবৈধ অর্থ বিনিয়োগের অভিযোগ এখন বেশ পুরনো।










