সৌদি আরব থেকে রফতানি হওয়া অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের অন্যতম গন্তব্য যুক্তরাষ্ট্র। এ দুই মিত্র দেশের মধ্যে প্রতি বছর বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি বাণিজ্য হয়। তবে করোনা মহামারীর মধ্যে সৌদি-মার্কিন জ্বালানি তেল বাণিজ্যে ভাটার টান দেখা গেছে। এ ধারাবাহিকতায় গত অক্টোবরে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি ৩৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমেছে। খবর ব্লুমবার্গ ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্যের বরাতে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের আগস্টে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিতে রেকর্ড পতন দেখা দিয়েছিল। ওই সময় সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৭৭ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছিল।

অক্টোবরে আগের সেই রেকর্ড ভেঙেছে। এ সময় সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি আরো কমে দৈনিক গড়ে এক লাখ ব্যারেলের নিচে নেমে এসেছে। ৩৫ বছরের মধ্যে কোনো মাসে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন এক লাখ ব্যারেলের কম অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়নি।

চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে রাশিয়ার সঙ্গে সৌদি আরবের মূল্যযুদ্ধ চলছিল। ওই সময় দাম কম থাকায় মার্কিন ক্রেতারা সৌদি জ্বালানি তেল কেনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। এর জের ধরে এপ্রিলে সৌদি আরব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিদিন গড়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছিল।

করোনা মহামারীর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে কমালেও চীনে জ্বালানি তেলের রফতানি বাড়িয়েছে সৌদি আরব। চলতি বছরের প্রথম ১১ মাসে (জানুয়ারি-নভেম্বর) সৌদি আরব থেকে চীনের বাজারে প্রতিদিন ১৬-১৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে চীনে জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বাজারে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করা নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে তুমুল প্রতিযোগিতায় নেমেছে সৌদি আরব।