অপরিশোধিত পাম অয়েল রফতানিতে প্রতি টনে তিন গুণের বেশি আরোপিত কর বসিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। একই সঙ্গে পণ্যটির রফতানি শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। ফলে বাড়তি রফতানি শুল্ক ও আরোপিত কর মিলিয়ে ইন্দোনেশীয় পাম অয়েলের আমদানি ব্যয় অনেকটা বেড়ে যাবে। বাড়তি অর্থ গুনতে হবে আমদানিকারকদের। তবে ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েলের আমদানি ব্যয় বাড়লেও এখনই একই পথে হাঁটছে না মালয়েশিয়া। দেশটি পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক বাড়ানোর মতো কোনো সিদ্ধান্ত এখনই নিচ্ছে না। ফলে দেশটি থেকে পণ্যটির আমদানিতে আগের মতোই ব্যয় হবে আমদানিকারকদের। খবর স্টার অনলাইন ও রয়টার্স।

পাম অয়েল উৎপাদনকারী ও রফতানিকারক দেশগুলোর বৈশ্বিক তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ইন্দোনেশিয়া। এর পরই মালয়েশিয়ার অবস্থান। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া সম্মিলিতভাবে পণ্যটির বৈশ্বিক রফতানি বাণিজ্যের ৯০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করে। চলতি বছরের জুনে অপরিশোধিত পাম অয়েল, অপরিশোধিত পাম কার্নেল অয়েল ও পরিশোধিত পাম কার্নেল অয়েলের ওপর থেকে আরোপিত রফতানি শুল্ক পুরোপুরি তুলে নেয় মালয়েশিয়া সরকার। বলা হয়, চলতি বছরের শেষ দিন পর্যন্ত (৩১ ডিসেম্বর) এসব পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় রফতানি করা যাবে। ফলে জুনের পর থেকে স্বল্প দামে মালয়েশীয় পাম অয়েল ও পাম কার্নেল অয়েল আমদানির সুযোগ পান আমদানিকারকরা।

খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীতে ভীষণ রকমের চাপে পড়ে মালয়েশিয়ার অর্থনীতি। স্থবির হয়ে আসে দেশটির আমদানি-রফতানি কার্যক্রম। বাদ যায়নি পাম অয়েল রফতানিও। দেশটির অন্যতম শীর্ষ এ রফতানি পণ্যটির বাণিজ্যে রীতিমতো ধস নামে। এ পরিস্থিতিতে রফতানির সুদিন ফিরিয়ে আনতে পাম অয়েল ও পাম কার্নেল অয়েলের রফতানি শুল্ক ছয় মাসের জন্য শূন্যে নামিয়ে আনে মালয়েশিয়া সরকার। বিশেষ এ সুবিধার মেয়াদ শেষ হচ্ছে চলতি ডিসেম্বরে।

ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পাম অয়েল ও পাম কার্নেল অয়েলের রফতানি শুল্ক বাড়াতে পারে মালয়েশিয়া এমন গুঞ্জন বাজারে ভাসছিল। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়া সরকার পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক বাড়ানোর পর এ গুঞ্জন আরো জোরালো হয়। তবে মালয়েশিয়া সরকার আপাতত সে পথে হাঁটছে না। দেশটির প্লান্টেশন, ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যান্ড কমোডিটিজ মিনিস্ট্রির সেক্রেটারি জেনারেল রবি মুথায়া বলেন, ২০২০ সালের শেষে পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক বাড়ানোর বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এলএমসি ইন্টারন্যাশনালের পণ্যবাজারবিষয়ক বিশ্লেষক জুলিয়ান ম্যাকগিল বলেন, মালয়েশিয়ার তুলনায় ইন্দোনেশীয় পাম অয়েলের রফতানি মূল্য তুলনামূলক কম ছিল। ফলে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ও করোনা মহামারীর ধাক্কা সামলাতে পণ্যটির রফতানি শুল্ক তুলে নেয় মালয়েশিয়া সরকার। করোনার চ্যালেঞ্জ এখনো যায়নি। তাই ২০২১ সালে গিয়েও বিনা শুল্কে পাম অয়েল রফতানির সুযোগ দিতে পারে দেশটি।

তিনি আরো বলেন, ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক তিন গুণ বাড়িয়েছে। এখন মালয়েশিয়া শুল্কমুক্ত রফতানি সুবিধা দিলে পণ্যটির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এক ধাপ এগিয়ে যাবে দেশটি। ফলে আগে যেসব আমদানিকারক মালয়েশিয়ার তুলনায় ইন্দোনেশীয় পাম অয়েল বেশি কিনতেন, তারাও কুয়ালালামপুরভিত্তিক বেচাকেনায় ফিরে আসবেন। তুলনামূলক স্বল্প দাম তাদের মাশয়েশীয় পাম অয়েলের প্রতি নতুন করে আগ্রহী করে তুলবে। এতে লাভবান হবে মালয়েশিয়ার রফতানিমুখী পাম অয়েল শিল্প।

উল্লেখ্য, করোনাকালে রফতানি খাতে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে অন্যতম শীর্ষ রফতানি পণ্য পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক ন্যূনতম পর্যায়ে রেখেছিল ইন্দোনেশিয়া। শুল্ক দিতে হতো টনপ্রতি ৩ ডলার। ডিসেম্বর থেকে এ শুল্ক হার বাড়িয়ে টনপ্রতি ৩৩ ডলার পুনর্নির্ধারণ করেছে দেশটি। আগে ইন্দোনেশিয়া থেকে পাম অয়েল আমদানিতে আমদানিকারকদের টনপ্রতি ৫৫ ডলার আরোপিত কর দিতে হতো। দেশটির সরকারের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, এখন থেকে এ করহার টনপ্রতি ১৮০ ডলার। ১০ ডিসেম্বর থেকে ইন্দোনেশীয় পাম অয়েলের নতুন এ করহার কার্যকর হয়েছে। এর আগে ৩০ নভেম্বর অপরিশোধিত পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক বাড়িয়েছে দেশটি।