নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের আয়োজনে ‘মানবাধিকার এবং জাতীয় নিরাপত্তা: উন্মুক্ত সমাজ, উন্মুক্ত কণ্ঠস্বর কেন প্রয়োজন’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় মূল বক্তা ছিলেন সুইডেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনবিষয়ক রাষ্ট্রদূত ইনা কেশা নুয়োনেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী ও ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক আবদুর রব খানের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবাধিকার ও গণতন্ত্রবিষয়ক ধারণা জোরদারে এ ধরনের আলোচনার প্রয়োজনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জাতীয় স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের জন্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণ ও উন্মুক্ত আলোচনার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।

এ সময় রাষ্ট্রদূত ইনা কেশা নুয়োনেন তার উপস্থাপনা শুরু করেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন সম্পর্কে সুইডেনের বৈদেশিক নীতির অগ্রাধিকারগুলোর একটি সংক্ষিপ্ত সারসংক্ষেপ উত্থাপনের মধ্য দিয়ে। তার বক্তব্যে তিনি জাতীয় এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য নাগরিক সমাজে ঐক্যবদ্ধতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও জেন্ডার সমতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, সহযোগিতা ও রাজনৈতিক সংলাপে মাধ্যমে মানবাধিকার নিশ্চিতকরণের জন্য সুইডেন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষত নারী অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণের ওপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করেন তিনি। বলেন, কণ্ঠস্বর সীমাবদ্ধ করে নয়, বরং নারী ও সংখ্যালঘুদের, জনজীবনে অংশগ্রহণের অধিকার এবং সামর্থ্য নিশ্চিতের মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

রাষ্ট্রদূত ইরেওনা শোয়া গিনোনি বলেন, উন্মুক্ত সমাজ উন্মুক্ত কণ্ঠস্বরের ওপর নির্ভর করে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কোনো বিলাসবহুল বিষয় নয়। এটি গণতন্ত্রের ভিত্তি ও জাতীয় স্থিতিশীলতার মূল চালিকাশক্তি। মানবাধিকারকে সম্মান করা হলে সমাজ আরো শক্তিশালী, নিরাপদ ও ঐক্যবদ্ধ হয়। আমরা দেখেছি বাংলাদেশে কীভাবে তরুণদের সাহস এবং সম্পৃক্ততা এই উন্মুক্ততাকে সমুন্নত রাখতে পারে এবং গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা সৃষ্টি করতে পারে।

প্রশ্নত্তোরপর্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শকরা পরিবর্তনশীল বিশ্বে মানবাধিকার সমুন্নত রাখার বাস্তব চ্যালেঞ্জ, গণতন্ত্রের স্তম্ভ হিসেবে লিঙ্গ সমতা প্রচারে শিক্ষার ভূমিকা এবং আইনের শাসনের সর্বোত্তম অনুশীলন নিয়ে আমন্ত্রিত বক্তার সঙ্গে আলোচনা করেন।

আলোচনার সমাপ্তি টেনে অধ্যাপক আবদুর রব খান বলেন, এ আলোচনা একটি সুস্থ, অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্র এবং দীর্ঘমেয়াদী জাতীয় স্থিতিশীলতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র স্পষ্ট করতে সাহায্য করেছে। উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য তিনি শিক্ষা ও ‘উন্মুক্ত কণ্ঠস্বর’ সহজ করার উপর জোর দেন। অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রদূত ইরেওনা শোয়া গিনোনি নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস পরিদর্শন করেন। এছাড়াও তিনি শিক্ষার্থীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

—বিজ্ঞপ্তি