চলতি বছর অস্ট্রেলিয়ায় রেকর্ড গম উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো দেশটি উৎপাদনে সফলতার মুখ দেখতে যাচ্ছে। খাদ্যশস্য উৎপাদন বেল্টে অনুকূল আবহাওয়া কৃষকদের আবাদ বাড়াতে সহায়তা করেছে। এটিই উৎপাদন বৃদ্ধিতে প্রধান প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্লেষকরা জানান, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা চালানোর পর বিশ্ববাজারে গমের সরবরাহ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বিশ্বের শীর্ষ রফতানি অঞ্চল থেকে জাহাজীকরণ প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এ কারণে খাদ্যশস্যের দাম ব্যাপক বেড়েছে। বৈশ্বিক খাদ্য সংকটের উদ্বেগও বাড়িয়েছে বিষয়টি। ভারত সম্প্রতি গম রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। অন্যদিকে বৈরী আবহাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন পরিস্থিতিও ভালো নয়। এমন পরিস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়ায় গমের বাম্পার ফলন বিশ্ববাজারে আশার সঞ্চার ঘটিয়েছে।

তথ্য বলছে, গত মার্চে শিকাগো বোর্ড অব ট্রেডে গমের ভবিষ্যৎ সরবরাহ মূল্য ইতিহাসের সর্বোচ্চে আরোহণ করে। প্রতি বুশেল লেনদেন হয় ১৩ ডলার ৬৪ সেন্টে। সর্বশেষ কার্যদিবসে শস্যটির দাম দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে বুশেলপ্রতি ১০ ডলার ৪৫ সেন্টে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে ২০২১-২২ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ গম রফতানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়। দেশটির কৃষকরা চলতি বছরের গম আবাদ কার্যক্রম প্রায় শেষ করেছেন। এবার প্রায় ১ কোটি ৪৪ লাখ ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে গম আবাদ হয়েছে, যা সর্বকালের সর্বোচ্চ। ব্রোকারেজ আইকন কমোডিটিজ জানায়, লাভজনক দাম ও উৎপাদন উপযোগী আবহাওয়া দেশটির কৃষকদের আবাদ বাড়াতে উৎসাহিত করেছে। গত বছর অস্ট্রেলিয়ার প্রায় ১ কোটি ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে গম উৎপাদন হয়েছিল।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২২-২৩ মৌসুমের উৎপাদন নিয়ে চূড়ান্ত পূর্বাভাস দেয়ার সময় এখনো আসেনি। কারণ জমি থেকে গম সংগ্রহ করতে প্রায় বছরের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

তবে বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, মৌসুম শেষে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে তিন থেকে সাড়ে তিন কোটি টন। গত মৌসুমে দেশটি ৩ কোটি ৬০ লাখ টন গম উৎপাদন করেছিল।

গত ১০ বছরে অস্ট্রেলিয়ার গড় গম উৎপাদন বছরওয়ারি ২ কোটি ৪৮ লাখ টনে পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়াম ব্যুরো অব এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রিসোর্চ ইকোনমিকস অ্যান্ড সায়েন্স এ তথ্য জানিয়েছে।

মার্কিন কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে গমের বৈশ্বিক উৎপাদন ধরা হয়েছে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ ৩০ হাজার টন। এক বছর আগে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৭৭ কোটি ৯২ লাখ ৯০ হাজার টন।