বিশ্বের শীর্ষ ১০ বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যে থাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে জাপানের মিজুহো ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটির বিনিয়োগ ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে আলাপকালে তাদের এমন লক্ষ্যমাত্রার কথা জানিয়েছেন।
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ গ্রুপের ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং লিগ টেবিলে গত বছর মিজুহোর অবস্থান ছিল তালিকার দশম স্থানে। এর আগে সর্বশেষ ২০১০ সালে জাপানের একটি ব্যাংক বৈশ্বিক বিবেচনায় শীর্ষ দশের মধ্যে স্থান করে নেয়। তালিকার নয় নম্বরে স্থান পায় নোমুরা হোল্ডিংস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। ওই তালিকায় ওপরের দিকে ছিল গোল্ডম্যান স্যাকস, জেপি মরগান ও বালজ ব্রাকেটের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো।
মিজুহোর গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান নাওকি তাকাহাশি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি শীর্ষ দশে আমাদের অবস্থান ধরে রাখতে পারব। আমরা বিশ্বে শীর্ষস্থানীয় ব্যাংকগুলোর আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চাই।’
ঋণ ও ইকুইটি আন্ডাররাইটিংসহ গত বছর মিজুহোর বিনিয়োগ ব্যাংকিং ফির পরিমাণ ছিল ১৯৭ কোটি ডলার। এটি আগের বছরের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি।
প্রায় ৪০০ ব্যাংকারসহ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান গ্রিনহিল অধিগ্রহণের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে বাড়তি সুবিধা পাবে মিজুহো। এ অঞ্চলের বাজারে নিজেদের ব্যবসার পরিসর আরো বাড়ানোর সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটি।
মিজুহোর গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান নাওকি তাকাহাশি জানিয়েছেন, তিনি ব্যাংকের এ ধরনের বাজার বৃদ্ধির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গত মাসে দেয়া এক বিবৃতিতে আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিদ্যমান সম্পদ দ্বিগুণ করার বিষয়ে জানায় মিজুহো ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ। এর মাধ্যমে সম্পদের মোট মূল্য ১ লাখ কোটি ডলার বা ১৪৮ লাখ কোটি ইয়েনে নিয়ে যাওয়া হবে।
মিজুহোর সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানির সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ও প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নরিয়ুকি সাতো। তিনি জানান, সম্পদের মূল্য বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জনের জন্য গ্রুপটি বেসরকারি ঋণের মতো বিকল্প আর্থিক কৌশল বিবেচনা করবে। মূলত এর মাধ্যমে করপোরেট ঋণগ্রহীতাদের তহবিল ধার দেয়া ছাড়াও রিয়েল এস্টেটে বা আবাসন খাতে বিনিয়োগ করা যায়।
বর্তমানে মিজুহোর সম্পদের পরিমাণ ৬৭ লাখ কোটি ইয়েন। এছাড়া গ্রুপটির ব্যবসায়িক অংশীদার রাকুতেন সিকিউরিটিজ শিগগিরই গ্রাহকদের জন্য আলাদা বিনিয়োগ পণ্য প্রকাশ করবে।
বিশ্বের বৃহত্তম সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানিগুলোর মধ্যে অন্যতম যুক্তরাষ্ট্রের ব্ল্যাকরক। ২০২২ সালের শেষ দিকে মার্ক-টু-মার্কেট ভিত্তিতে কোম্পানিটির ৮ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের পরিচালনাধীন সম্পদ ছিল। এরপর ৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যানগার্ড গ্রুপ। নরিয়ুকি সাতো জানান, মিজুহো ২০৩০ সালের মাঝামাঝি সময়ে ১ ট্রিলিয়ন বা তার বেশি মূল্যের সম্পদ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর ক্লাবে যুক্ত হবে, যার প্রেক্ষিতে দেশটির অর্থনীতি আরো বিস্তৃত হবে।










