রাশিয়ার সঙ্গে ব্যবসা করা আর্থিক সংস্থাগুলোকে নতুন করে নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ হুমকিতে তুরস্ক-রাশিয়ার বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাশিয়া থেকে আমদানি করা তেল এবং তুর্কি রফতানি পণ্যের বিপরীতে অর্থ লেনদেন ব্যাহত হচ্ছে। সাতটি সূত্রের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে রয়টার্স।

বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন, গত বছরের ডিসেম্বরে মার্কিন নির্বাহী আদেশে কাউকে স্পষ্টভাবে লক্ষ করা হয়নি। তবে এ আদেশের পর রাশিয়ান অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি তেল সরবরাহের পর স্থানীয় মুদ্রায় সামান্য অর্থ পরিশোধ করতে পেরেছে তুরস্ক। পাশাপাশি বিস্তৃত পরিসরে রফতানির জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে অর্থ পেতে জটিলতার মুখে পড়েছে দেশটি।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য ক্রেমলিনের রাজস্ব হ্রাস করা। বিশ্ববাজারে রাশিয়ার জ্বালানি তেলের প্রবাহকে একেবারে বন্ধ না করে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা। এদিকে পেট্রলের দামে উল্লম্ফন এড়াতে তুরস্ক এখন যাদের সহযোগিতা নিতে চাচ্ছে, তারাও একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়েছে। জ্বালানি তেল ব্যবসায়ীদের মতে, ভারতে রাশিয়ার জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও চীনের সঙ্গে লেনদেনে জটিলতার মুখে পড়েছে দেশটি।

ন্যাটো সদস্য তুরস্কের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং ডিজেল রফতানিকারক রাশিয়া। গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে কৃষ্ণ সাগরের প্রতিবেশী দেশটিকে ৮৯ লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল এবং ৯৪ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করেছে রাশিয়া।

চারটি সূত্র জানিয়েছে, তুর্কি ব্যাংকগুলো রাশিয়ান গ্রাহকের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেন বারবার পুনর্নিরীক্ষা করছে। একই সঙ্গে শর্তগুলো আরো কঠোর করেছে। ব্যাংকগুলো তুরস্কের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটায়নি।