কয়েক দিন বাড়তি থাকার পর দিনাজপুরের হিলিতে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করেছে। মাত্র তিনদিনের ব্যবধানে দেশী, আমদানি ও ভারতীয় পেঁয়াজের দাম খুচরা ও পাইকারিতে কেজিপ্রতি কমেছে ৪০-৫০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে দেশীয় নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় এবং আমদানি পেঁয়াজের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় দাম কমতে শুরু করেছে।

গতকাল সরেজমিন হিলি বাজারের পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশীয় নতুন পেঁয়াজ পাইকারিতে প্রতি কেজি ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চোরাই পথে আসা ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকায়, যা তিনদিন আগে ১৭০-১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি আমদানি করা চীনা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়, যা তিনদিন আগে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। আর দেশীয় পাতা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে পাইকারির তুলনায় খুচরা বাজারে সব ধরনের পেঁয়াজে কেজিতে ১০ টাকার মতো বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পেঁয়াজের দাম কমতে শুরু করায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ক্রেতারা। হিলি বাজারে পেঁয়াজ কিনতে আসা মোকছেদুর রহমান ও মাহবুর রহমান বলেন, এক কেজি পেঁয়াজ ২২০ টাকা পর্যন্ত কিনতে হয়েছে। অনেকে বাড়তি দামের কারণে পেঁয়াজ খাওয়া এক রকম বাদ দিয়েছিল। বর্তমানে সে অবস্থা কিছুটা বদলাতে শুরু করেছে। এছাড়া ১৩ ডিসেম্বর ৪৫ টাকা দরে টিসিবির পেঁয়াজ বিক্রি শুরু হলে সাধারণ মানুষের জন্য আরো সুবিধা হবে।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা মনিরুল আলম বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করার পর থেকে দেশের বাজারে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছিল, সেটি এখন কমতে শুরু করেছে। এর প্রধান কারণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন পেঁয়াজ উঠতে শুরু করায় বাজারে সরবরাহ আগের তুলনায় খানিকটা বেড়েছে। এছাড়া পাতা পেঁয়াজ ওঠার কারণে বাজারে পেঁয়াজের দামের ওপর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। কিছুদিনের মধ্যে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের পেঁয়াজ বাজারে এলে দাম আরো কমে আসবে। এছাড়া চীন, মিসরসহ বিভিন্ন দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানি অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি হিলিসহ আশপাশের সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসাও স্বাভাবিক রয়েছে। এ কারণে বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ আগের চেয়ে বেড়েছে।