যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। তুষারপাতসহ তীব্র শীতের কারণে দেশটির সার্বিক কার্যক্রম অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে। শৈত্যপ্রবাহের কারণে খনিগুলো থেকেও গ্যাস উত্তোলন করা যাচ্ছে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি কমলেও শিল্প-কারখানা থেকে গৃহস্থালি পর্যাযে চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম কয়েক বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। ফলে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও অন্যত্র বিদ্যুতের সংকটও বাড়ছে। এছাড়া রাজনৈতিক প্রচারণা থেকে শুরু করে খেলাধুলা এমনকি ভ্রমণও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা রেকর্ড গ্যাস চাহিদার পূর্বাভাস সংশোধন করেছেন। তবে গ্যাস ব্যবহারের বিষয়ে তাদের অভিমত পরিবর্তন করেছেন। কেননা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়র দিবসে অনেক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস বন্ধ থাকবে।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ ও উচ্চ চাহিদার কারণে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে উৎপাদন বন্ধ। এ কারণে চলতি সপ্তাহে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ করার জন্য সাধারণ অধিবাসী ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে টেক্সাসের ইলেকট্রিক রিলায়েবিলিটি কাউন্সিল (ইআরসিওটি)। উৎপাদন স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংরক্ষণের এ আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংস্থাটি বলছে, টেক্সাসের বাসিন্দা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বিদ্যুৎ সংরক্ষণের কথা বলা হলেও জরুরি কাজগুলো এর আওতার বাইরে ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইআরসিওটি জানায়, চলতি সপ্তাহে বিদ্যুতের চাহিদা গত গ্রীষ্মের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শীতকালীন ঝড় উরির কারণে টেক্সাসসহ অন্যান্য রাজ্যে বেশ কয়েক দিন বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সংযোগ ছিল না। এ সময় ২০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারায়।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস উত্তোলন দৈনিক ১ হাজার ৬০ কোটি ঘনফুট কমেছে। ফলে ১১ মাসের মধ্যে উত্তোলন সর্বনিম্ন ৯ হাজার ৭১০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। মূলত তাপমাত্রা কমে আসায় খনিসহ উত্তোলনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ বরফে জমে যাওয়ায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরেও শীতকালীন ঝড় ইলিয়টের কারণে ১ হাজার ৯৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এছাড়া ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহের কারণে সরবরাহ কমেছিল ২ হাজার ৪০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের।

এলএসইজি জানায়, চলতি সপ্তাহে গ্যাসের ব্যবহার ১৬ হাজার ২২০ কোটি থেকে ১৭ হাজার ৪৩০ কোটি ঘনফুটে উত্তীর্ণ হবে। কিন্তু   দেশটির অভ্যন্তরীণ পর্যায়ে সরবরাহও কমেছে। 

অন্যদিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের আমদানি বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে এশিয়ার দেশগুলো। চীন, ভারত ও পাকিস্তান এরইমধ্যে পাইপলাইন প্রকল্পে ঝুঁকেছে। আনাদোলু এজেন্সির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিশ্বব্যাপী ৭০ হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত পাইপলাইন নির্মাণাধীন, যার অধিকাংশই স্থাপন করা হচ্ছে এশিয়ায়। এতে মোট খরচ হবে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ কোটি ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের সান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল এনার্জি মনিটরের (জিইএম) বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।