২০২৩ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে বৈশ্বিক বাণিজ্য আরো বাড়বে। মূলত বিশ্ববাজারে মোটরগাড়ি রফতানি ঊর্ধ্বমুখী থাকার পূর্বাভাস দেয়ায় বাণিজ্যিক প্রবৃদ্ধির বিষয়ে আশাবাদী বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও)। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।
জেনেভাভিত্তিক সংস্থাটি প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানা যায়, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার পর্যায়ক্রমিক পণ্য ব্যারোমিটারের হিসাবে মে মাসে ৯৫ দশমিক ১ শতাংশ থেকে জুনে ৯৯ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
পণ্য বাণিজ্য ব্যারোমিটার বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য একটি সমন্বিত নেতৃস্থানীয় সূচক, যা সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক প্রবণতাগুলোর তুলনায় পণ্যদ্রব্যের বাণিজ্যিক গতিপথ সম্পর্কে সাম্প্রতিক তথ্য সরবরাহ করে। ১০০-এর বেশি ব্যারোমিটার মানগুলো ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বাণিজ্যিক ভলিউম দেখায় এবং ১০০-এর কম মানগুলো নির্দেশ করে পণ্য বাণিজ্যিক প্রবণতার নিম্নমুখী বা আগামীতে আরো কমবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও চীনসহ নেতৃস্থানীয় অর্থনীতিতে মন্থর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে বৈশ্বিক আমদানি চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এছাড়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে গত বছর ইউরোপীয় অঞ্চলে বিদ্যুতের দাম ও মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্য স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার করার জন্য সুদহার বাড়িয়েছে। যার কারণে অঞ্চলটির মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। ২০২২ সালে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বাণিজ্য সম্প্রসারণের পরে ২০২৩ সালে ইউরোকে যাদের প্রাথমিক মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে, এমন ২০টি দেশ নিয়ে গঠিত ট্রেড ব্লকের প্রবৃদ্ধি দশমিক ৯ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।
ব্যারোমিটারের বেশির ভাগ উপাদান সূচকগুলো সাম্প্রতিক রিডিংগুলোয় চলমান প্রবণতার থেকে সামান্য নিচে অবস্থান করছিল। যেমন রফতানি আদেশ সূচক ৯৭ দশমিক ৬ শতাংশ, কনটেইনার শিপিং সূচক ৯৯ দশমিক ৫ ও এয়ার ফ্রেইট ইনডেক্স ৯৭ দশমিক ৫ শতাংশ ছিল। তবে প্রধান ব্যতিক্রম ছিল অটোমোটিভ পণ্যের সূচক ১১০ দশমিক ৮ শতাংশ, যার প্রবণতা ঊর্ধ্বমুখী ছিল এবং ইলেকট্রনিক উপাদান সূচক ৯১ দশমিক ৫ শতাংশ, যার প্রবণতা নিম্নমুখী ছিল।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘অটোমোটিভ পণ্যের রফতানি বৃদ্ধি ২০২৩ সালের প্রথমার্ধে জাপানে প্রত্যাশার চেয়ে শক্তিশালী জিডিপি বাড়াতে অবদান রেখেছে।’ জাপানের অর্থনীতি পূর্বাভাসের তুলনায় অনেক দ্রুত প্রসারিত হয়েছে। কারণ ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ও ব্যক্তিগত খরচ উভয়ের প্রত্যাশিত-অপ্রত্যাশিত ফলাফলের তুলনায় রফতানি বৃদ্ধির হার বেশি। চলতি মাসের শুরুতে কেবিনেট অফিসের তথ্য উদ্ধৃত করে ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে জানায়, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে জাপানের মোট জিডিপি ৬ শতাংশ বেড়েছে। এর আগে ২০২০ সালের চতুর্থ প্রান্তিকে দেশটি সবচেয়ে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখেছিল।










