সৌদি আরব থেকে জ্বালানি তেল আমদানি আরো বাড়িয়েছে চীন। চলতি বছরের অক্টোবরে দেশটি সৌদি আরব থেকে আগের বছরের তুলনায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি ৭৬ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়িয়েছে। এতে চীনের বাজারে জ্বালানি তেল সরবরাহে নিজেদের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে রাষ্ট্রটি।
মূলত অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা বাড়ার
জেরে এ সময় চীন জ্বালানি পণ্যটির আমদানি বাড়িয়েছে। খবর রয়টার্স।
চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমসের
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অক্টোবরে সৌদি আরব থেকে চীন মোট ৮৪ লাখ ১০ হাজার টন অপরিশোধিত জ্বালানি
তেল আমদানি করেছে। দৈনিক হিসাবে এর পরিমাণ দাঁড়ায় ১৯ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেলে।
এর আগের মাসে রিয়াদ থেকে বেইজিংয়ের
আমদানিকারকরা দৈনিক গড়ে ১৭ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি
করেছিল। আর ২০১৮ সালের একই মাসে পণ্যটি আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে ১১ লাখ ২০
হাজার ব্যারেল। সে হিসাবে এক মাস ও এক বছরের ব্যবধানে দেশটি সৌদি থেকে অপরিশোধিত
জ্বালানি তেল আমদানি দৈনিক গড়ে যথাক্রমে ২ লাখ ৪০ হাজার ও ৮ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল
বাড়িয়েছে।
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে
সৌদি আরামকোর দুটি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়। এতে সৌদি আরবে জ্বালানি তেলের দৈনিক
উত্তোলন অর্ধেকে নেমে আসে। স্বভাবতই এ ঘটনার পর দেশটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির
রফতানি হ্রাস পাওয়ার কথা ছিল। যদিও সৌদি আরবের পক্ষ থেকে রফতানি কমার শঙ্কা উড়িয়ে
দেয়া হয়। বিশ্লেষকরা বলছেন,
দেশটির হাতে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেল মজুদ থাকায়
অক্টোবরের রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিফিনিটিভের
জ্বালানি তেল গবেষণা দলের বিশ্লেষকরা জানায়,
নভেম্বর থেকে সৌদি আরবের জ্বালানি তেল সরবরাহ
ব্যাহত হতে শুরু করবে।
তবে এ সময়ে চীনের শুল্ক বিভাগ
ভেনিজুয়েলা থেকে জ্বালানি তেল আমদানির কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। খাতসংশ্লিষ্টরা
প্রত্যাশা করছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং এ বিষয়ে ট্রাম্পের কড়াকড়ি নির্দেশের জেরে
অক্টোবরে ভেনিজুয়েলা থেকে চীনের জ্বালানি তেল আমদানি কমে শূন্যে নেমেছে।
একই সময়ে ইরান থেকে দেশটি ৫ লাখ ৩২
হাজার ৭৯০ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, যা সেপ্টেম্বরের তুলনায় কিছুটা কম।
তবে এ সময়ে মালয়েশিয়া থেকে আমদানি দ্বিগুণ বাড়িয়ে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টনে উন্নীত
করেছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ ৮ হাজার ৪২২ টনে। এছাড়া
অক্টোবরে রাশিয়া থেকে চীন আমদানি করেছে ৬৯ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত
জ্বালানি তেল।









