মোট আমদানি কমলেও রাশিয়া থেকে কয়লা আমদানি বাড়িয়েছে চীন। আকর্ষণীয় মূল্যছাড় সুবিধার কারণেই দুই দেশের মধ্যে কয়লা বাণিজ্যের উন্নতি ঘটেছে। সম্প্রতি চীনের জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব কাস্টমস এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

তথ্য বলছে, ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে রাশিয়ার কয়লা রফতানিও। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প বাজার ধরতে মরিয়া মস্কো। তাই দেশটি এশিয়ার বাজারে আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ে কয়লা বিক্রি করছে। এ সুবিধা নিতে গত মাসেই দেশটি থেকে কয়লা আমদানি ২২ শতাংশ বাড়িয়েছে চীন।

অন্যদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক মাসগুলোয় বেড়েছে রাশিয়ার কয়লা রফতানি। এক্ষেত্রে ভারত ও চীনের বাজার দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

চীনের বিশ্বের শীর্ষ কয়লা ব্যবহারকারী দেশ। জুনে দেশটি রাশিয়ার কাছ থেকে ৬১ লাখ ২০ হাজার টন কয়লা আমদানি করে। মে মাসে আমদানি করা হয়েছিল ৫০ লাখ ১০ হাজার টন। এছাড়া গত বছরের জুনে আমদানির পরিমাণ ছিল ৫২ লাখ ৪০ হাজার টন। অর্থাৎ মাস এবং বছর—উভয় ক্ষেত্রেই আমদানি বেড়েছে।

শুল্ক বিভাগ বলছে, এ বছরের মার্চ থেকেই রাশিয়ার কয়লা আমদানি বাড়াচ্ছে চীন। বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বাড়লেও রাশিয়ান কার্গো বিক্রি হচ্ছে ব্যাপক মূল্যছাড়ে। পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য করা থেকে সরে আসার ঘোষণা দেয়ার পরই মূল্যছাড় দেয় দেশটি।

ছয় হাজার কিলোক্যালোরি তাপমান সমৃদ্ধ রাশিয়ান কয়লা টনপ্রতি ১৭৩-১৭৬ ডলারে বিক্রি হচ্ছে। অথচ একই তাপমান সমৃদ্ধ নিউক্যাসল বাজার আদর্শ কয়লার বর্তমান দাম টনপ্রতি ৪০০ ডলার।

এদিকে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জানুয়ারি-মে) দেশটি ১৮১ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উত্তোলন ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ বেড়েছে। স্থানীয় বাজারে উত্তোলন বাড়ায় মোট আমদানি কমেছে। তাছাড়া কভিডজনিত বিধিনিষেধের কারণে স্থানীয় বাজারে চাহিদাও কম।

স্থানীয় বাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বেইজিং। উদ্দেশ্য চাহিদার অনুপাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা। এ ধারাবাহিকতায় উত্তোলন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির সরকার।

দিনে ১ কোটি ২৬ লাখ টন করে কয়লা উত্তোলনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে দেশটির সরকারের। উদ্দেশ্য ৬২ কোটি টনের জাতীয় মজুদ তৈরি এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা। সে লক্ষ্যেই সরকার খনি মালিকদের উত্তোলন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারে জ্বালানিটির দাম স্থিতিশীল রাখতেও পর্যাপ্ত উদ্যোগও নেয়া হয়েছে।