জাপানে খুচরা, রেস্তোরাঁ, টেক্সটাইল ও অন্যান্য শ্রমিক সংগঠন আগামী বছর ৬ শতাংশ বেতন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে। ইউএ জেনসেনের শ্রমিক ইউনিয়ন প্রতিনিধিরা সম্প্রতি টোকিওতে ২০২৪ সালের শ্রমবিষয়ক আলোচনার শর্তাবলি নিয়ে বৈঠকে বসেন। খবর নিক্কেই এশিয়া।

আগামী জানুয়ারিতে আরো একটি বৈঠকে দাবিগুলো চূড়ান্ত করা হবে। ইউএ জেনসেনের আওতাধীন দুই হাজারের বেশি ইউনিয়নে প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার সদস্য রয়েছে।

মূল্যস্ফীতি প্রকৃত মজুরি হ্রাস ও শ্রমের ঘাটতির মধ্যে ইউএ জেনসেনের লক্ষ্য অনুযায়ী আগামী বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি হলে বাজারে চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইউএ জেনসেনের প্রধান আকিহিকো মাতসুউরা জানান, ইউনিয়ন শ্রমিকদের কল্যাণের জন্য এ আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ। কোম্পানিগুলো ২০২৩ সালের মতো বেতন না বাড়ালে তাদের শ্রমিকদের ধরে রাখা কঠিন হবে। 

পূর্ণকালীন শ্রমিকদের জন্য ইউএ জেনসেন ৬ শতাংশ বৃদ্ধি চাইতে পারে। এর মধ্যে বেজ পেমেন্ট ৪ শতাংশ বৃদ্ধির দাবি রয়েছে। খণ্ডকালীন ৬০ শতাংশ শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও ৬ শতাংশ বেতন বাড়াতে চায় তারা। গত বছর ইউনিয়নটি পূর্ণকালীনদের জন্য ৩ দশমিক ৬৪ ও খণ্ডকালীনদের জন্য ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেতন বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। 

জাপানের বৃহত্তম শ্রম সংগঠন জাপানি ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন, যা রেঙ্গো নামেও পরিচিত। গত মাসে তারা ঘোষণা করেছিল, ২০২৪ সালে কমপক্ষে ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির দাবি জানাবে। তবে ইউএ জেনসেনের দাবিগুলো গত বছরের রেঙ্গোর দাবিকে ছাড়িয়ে গেছে।

জাপানে খণ্ডকালীন শ্রমিকরা সামাজিক কল্যাণ তহবিলে অর্থ প্রদান বেড়ে যাওয়ায় বার্ষিক ১০ লাখ ৬০ হাজার ইয়েন (৭ হাজার ৮০ ডলার) বা তার বেশি উপার্জন করলেও সামগ্রিকভাবে অর্থ হারাচ্ছে। ইউএ জেনসেন এ সমস্যা সমাধানের জন্য নিয়োগকর্তাদের সরকারি ভর্তুকি ব্যবহার করার ও বেতন বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছে।

মূল্যস্ফীতি ও শ্রম ঘাটতি অব্যাহত থাকায় কিছু কোম্পানি সক্রিয়ভাবে ২০২৪ সালের আগে বেতন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে। যেমন ইলেকট্রনিকস খুচরা বিক্রেতা বিক ক্যামেরা এপ্রিলে পূর্ণকালীন শ্রমিকদের জন্য মূল বেতন ৭ শতাংশের বেশি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সানটরি হোল্ডিংসের সিইও তাকেশি নিনামিও প্রায় ৭ শতাংশ সামগ্রিক বেতন বাড়ানোর পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে।