আবাসন খাত পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট খাতে ১৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করেছে চীনের বিভিন্ন ব্যাংক। গত ২৬ জানুয়ারি চীনের সাদা তালিকাভুক্ত প্রাদেশিক সরকার আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে ঋণ সহায়তা আবেদনের ভিত্তিতে এ আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করে স্থানীয় ব্যাংকগুলো। দেশটির খাতসংশ্লিষ্টরা সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর রয়টার্স।
সংশ্লিষ্টদের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, চীনের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) এক-চতুর্থাংশ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করেছে আবাসন খাত। গত কয়েক বছরে পিছিয়ে পড়া খাতটিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বিশাল এ ঋণ অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং।
অন্যদিকে দেশটির নগর-পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, নতুন এ প্রকল্পের আওতায় চীনের প্রায় ২১৪টি শহরে ৫ হাজার ৩০০টির বেশি প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে। প্রকল্পের আওতায় এরই মধ্যে ৫২ শহরে প্রায় ১৬২টি প্রকল্পে ৩০০ কোটি ইউয়ান ঋণ বরাদ্দের চুক্তি হয়েছে। এছাড়া যেসব ব্যাংক সাদা তালিকাভুক্ত প্রকল্পগুলোয় ঋণ দিচ্ছে না, সেসব আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
খাতসংশ্লিষ্টদের দাবি, এসব ঋণ শুধু নির্দিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার হতে পারে। এছাড়া ঋণ পরিশোধ বা আর্থিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করবে না।
প্রসঙ্গত, ১৯৭৮ সালে অর্থনীতিকে উন্মুক্ত করে দেয়ার পর গত কয়েক দশকে সবচেয়ে দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশে পরিণত হয় চীন। ১৯৯১-২০১১ সালের মধ্যে দেশটিতে বার্ষিক ১০ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কমিউনিস্ট নেতা শি জিনপিংয়ের শাসনামলে অর্থনীতির সম্প্রসারণ মন্থর হয়েছে। তবে ২০২১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত গড় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশে রয়েছে। একই সময় আবাসন খাতে সংকট গভীর হয়েছে। নতুন বাড়ি বিক্রি কমে গেছে।
দেশটির বৃহৎ আবাসন প্রতিষ্ঠান কান্ট্রি গার্ডেনের মতো বড় ডেভেলপারদের ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ব্যাংক খাতে। অনেক কোম্পানি এরই মধ্যে ঋণখেলাপিতে পড়েছে। বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ক্রমে চীন থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিচ্ছেন। গত বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে চীনে বিদেশী বিনিয়োগ ১৯৯৮ সালের পর প্রথমবারের মতো নেতিবাচক পর্যায়ে নেমেছিল।










