বিশ্বের মোট সম্পদের পরিমাণ বাড়ছে, তবে সব অঞ্চলে প্রবৃদ্ধির এ হার সমান নয়। বরং পুঁজির সঞ্চালন, উৎপাদনের নতুন ক্ষেত্র, বিনিয়োগ ও ঋণ প্রবাহের ওপর নির্ভর করে অঞ্চলভেদে সম্পদের পরিমাণ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বোস্টন কনসালটিং গ্রুপের (বিসিজি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বছরের তুলনায় ২০২৩ সালে বিশ্বজুড়ে ৪ শতাংশের বেশি সম্পদ বেড়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বেড়েছে লাতিন আমেরিকায়। এর পরই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা। খবর ইউরো নিউজ।
প্রতিবেদন অনুসারে, সম্পদ বৃদ্ধির দৌড়ে সবচেয়ে পিছিয়ে উত্তর আমেরিকা। এরপর দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে এশিয়া-প্যাসিফিক ও পশ্চিম ইউরোপ।
বিসিজির প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৩ সালে বিশ্বের মোট সম্পদের পরিমাণ ছিল ৪৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার (১ ট্রিলিয়নে ১ লাখ কোটি), যা আগের বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে আর্থিক সম্পদ (ফাইন্যান্সিয়াল ওয়েলথ), প্রায় ৭ শতাংশ।
উল্লেখ্য, সার্বিক সম্পদের মধ্যে একটি হলো আর্থিক সম্পদ। জমির মতো ভৌত সম্পদ কিংবা দেনা থাকলে তা আর্থিক সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয় না।
মোট সম্পদ বৃদ্ধির এ প্রবণতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। কারণ উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী অর্থনীতিকে একটা কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বিসিজির হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের তুলনায় ২০২২ সালে বিশ্বের মোট সম্পদ বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল নগণ্য, দশমিক ২ শতাংশ।
বিসিজির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে মোট সম্পদের পরিমাণ বাড়লেও বিশ্ব অর্থনীতি এখনো পুরোপুরি পুনরুদ্ধার হয়নি। কারণ ২০১৪-২১ সাল পর্যন্ত বিশ্বে মোট সম্পদ বৃদ্ধির গড় হার ছিল ৭ দশমিক ১ শতাংশ। সে হিসাবে গত বছর কভিড-পূর্ব গড়ের চেয়ে পিছিয়ে ছিল বিশ্ব।
বিসিজি বলছে, ২০২২ সালের তুলনায় ২০২৩ সালে সবচেয়ে বেশি সম্পদ বেড়েছে লাতিন আমেরিকায়, ৭ দশমিক ৯ শতাংশ। ৭ দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি নিয়ে এর পরই রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা। তবে ২০২৩-২৮ সাল পর্যন্ত বার্ষিক সম্পদ বৃদ্ধির পূর্বাভাসে শীর্ষে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা। আগামী চার বছরে এ দুই অঞ্চলে বার্ষিক সম্পদ বৃদ্ধির গড় হার দাঁড়াতে পারে ১০ শতাংশে। তবে দ্রুতগতিতে সম্পদ বাড়ার মানে এটা নয় যে এসব অঞ্চল সবচেয়ে সম্পদশালী।
২০২৩ সালে সম্পদ বৃদ্ধির হার সবচেয়ে কম ছিল উত্তর আমেরিকায়। বিসিজির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের ধনী দেশগুলোর অর্থনীতি ২০২২ সালে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছে। তবে পরের বছর তাদের অর্থনীতি গতি ফিরে পেয়েছে।’
বিসিজি বলছে, আর্থিক সম্পদ বৃদ্ধিতে বেশি প্রভাব ফেলে প্রযুক্তি খাত, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টরের বাজার। ২০২৩ সালে প্রথমবারের মতো অ্যাপল, এনভিডিয়া ও মাইক্রোসফটের বাজার মূলধনের পরিমাণ ৩ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে।
পশ্চিম ইউরোপের সম্পদ বৃদ্ধির হার কম হওয়ার মূল কারণ হিসেবে বিসিজি বলছে, এ অঞ্চলে আর্থিক সম্পদ খুব একটা বাড়েনি। এটা শুধু শেয়ারবাজারে মুনাফা কমে যাওয়ার কারণেই ঘটেনি, ২০২৩ সালে এ অঞ্চলের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগও ছিল তুলনামূলক কম।
এশিয়া-প্যাসিফিকে ২০২৩ সালে আর্থিক সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে ৫ দশমিক ১ শতাংশ। কারণ হিসেবে চীনের সম্পদ বৃদ্ধির হার কমে যাওয়াকে তুলে ধরেছে বিসিজি। তবে ২০২৩-২৮ সাল মেয়াদে এ অঞ্চলের সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।










