স্পিনিং শিল্পকে রক্ষা ও দেশীয় সুতা ব্যবহারের উদ্বুদ্ধ করতে দেশীয় সুতা ব্যবহার করে গামের্ন্টস পণ্য রফতানিকারকদের ১০ প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি একই সুতা আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সেফ গার্ড ডিউটি (সুরক্ষা শুল্ক) প্রয়োগের দাবি জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশের স্পিনিং শিল্পের সকল শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাবৃন্দ’র ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

লিখিত বক্তব্যে সালমা গ্রুপের চিফ অপারেটিং অফিসার (সিওও) ইঞ্জিনিয়ার আজহার আলী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পকে শক্তিশালী করার পেছনে স্পিনিংখাতের ব্যাপক অবদান রয়েছে। কাঁচা তুলা থেকে সূতা উৎপাদন, দক্ষ শ্রমশক্তির ব্যবহার, আধুনিক প্রযুক্তি সংযোজন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে এ শিল্প অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতে কয়েক লাখ মানুষ সম্পৃক্ত। তবে কভিড, ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট, জ্বালানি সংকটের মতো নানা কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা এসব চ্যালেঞ্জে স্পিনিং শিল্প খুবই সংকটময় পরিস্থিতির মুখোমুখি। এরই মধ্যে প্রায় ৪০ ভাগ শিল্প কারখানার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে প্রায় লক্ষাধিক শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তা বেকার হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। বাকি শিল্প কারখানাগুলোও বন্ধ হওয়ার পথে। এ অবস্থায় এই শিল্পকে বাঁচাতে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়।

তাদের প্রস্তাবনার মধ্যে রয়েছে- সুতা শিল্পকে (স্পিনিং সেক্টর) রক্ষায় গার্মেন্টসের রফতানি ওপর দেশীয় সুতা ব্যবহারকারীদের জন্য ১০ শতাংশ প্রণোদনা এবং সুতা আমদানির ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সেফ গার্ড ডিউটি প্রয়োগ করা। রফতানি করা পণ্যের সঙ্গে যুক্ত সব প্রতিষ্ঠানকে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল থেকে ৩০ শতাংশ রিবেট দিয়ে আপদকালীন সময়ে (দুই বছরের জন্য) প্রণোদনা দেয়া।

আজহার আলী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাষ্ট্রি এবং গার্মেন্টস কারখানাগুলোকে সহযোগিতার জন্য ৮ বিলিয়ন ডলারের ইডিএফ ফান্ড বরাদ্দ ছিল। যা কোনো কারখানার এক বছরের আমদানি অথবা ৩০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে যেটি বেশী তার সমপরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হত। বর্তমান আপদকালীন সময় থেকে উত্তরণের জন্য আগামী দুই বছরের জন্য এই সুবিধা পুনর্বহাল করতে হবে।

তাদের দাবির মধ্যে আরো রয়েছে, রফতানি পণ্যের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ কাঁচামাল স্থানীয় উৎস থেকে ব্যবহার করা, পণ্য বহুমুখীকরণ ও পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে রিসাইকেল এবং সাসটেইনেবল পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া, স্পিনিং মিলের যন্ত্রপাতিকে যুগোপযোগী ও আধুনিকায়ন করতে ৫ শতাংশ সুদে ১০ বছর মেয়াদী বিশেষ প্যাকেজের ঋণ সহায়তা প্রদান, কারখানায় পূর্ণ মাত্রায় উৎপাদন সক্ষমতা ফিরিয়ে নিতে আমদানি সক্ষমতা বাড়ানো ইত্যাদি।

এ সময় আরো ছিলেন, যমুনা গ্রুপের পরিচালক এবিএম সিরাজুল ইসলাম, মোশাররফ কম্পোজিটের পরিচালক (অপারেশন) শাহিনুল হক, আহমেদ গ্রুপের উপদেষ্টা শান্তিময় দত্ত, আরমাডা গ্রুপের পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, গ্রীনটেক্স স্পিনিংয়ের নির্বাহী পরিচালক রুহুল আমিন প্রমুখ।