যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৯ সালে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম রেকর্ড পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত হেনরি হাবে এ সময় প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট বা এমএমবিটিইউ (প্রতি ঘনফুটে ১ হাজার ৩৬ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট) প্রাকৃতিক গ্যাসের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ২ ডলার ৫৭ সেন্ট, যা ২০১৮ সালের গড় মূল্যের তুলনায় প্রায় ৬০ সেন্ট কম। একই সঙ্গে তা ২০১৬ সালের পর বার্ষিক গড় দাম হিসেবে সর্বনিম্ন। 

এদিকে দাম সাধ্যের মধ্যে থাকায় বিদায়ী বছরে দেশটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার রেকর্ড বেড়েছে। বিশেষত বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলনও বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। বেড়েছে রফতানিও। এতে  দেশটির বাজারে পণ্যটির সরবরাহ বেড়ে দাম কমেছে পণ্যটির।

বিদায়ী বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশির ভাগ মূল আঞ্চলিক ট্রেডিং হাবে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম সর্বোচ্চ স্তরে উঠেছিল। এরপর এপ্রিল থেকে বছরের শেষ পর্যন্ত তা তুলনামূলক কম ও স্থিতিশীল থেকেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে গত বছর আবাসিক ও বাণিজ্যিক খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার ২ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বিদ্যুৎ খাতেও এ সময় জ্বালানিটির ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টে। এ সময় দেশটির মধ্য পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়ে যায়। ফলে প্রাকৃতিক গ্যাসভিত্তিক কারখানাগুলোয় জ্বালানিটির ব্যবহার  বেড়ে যায়। অবশ্য পণ্যটির কম দাম এক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। জুলাই থেকে আগস্টের মধ্যে হেনরি হাবে প্রতি এমএমবিটিইউ প্রাকৃতিক গ্যাসের গড় দাম দাঁড়িয়েছিল ২ দশমিক ৩৩ সেন্ট। ১৯৯৮ সালের পর থেকে হেনরি হাবে এটাই জ্বালানি পণ্যটির সর্বনিম্ন গ্রীষ্মকালীন গড় দাম।

২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ড্রাই প্রাকৃতিক গ্যাসের (কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ মিথেন সম্বলিত গ্যাস) উত্তোলন প্রতি বছরই বেড়েছে। ২০১৮ সালে দেশটি পণ্যটির উত্তোলন প্রবৃদ্ধিতে আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। ২০১৯ সালের প্রথম ১০ মাসে (জানুয়ারি-অক্টেবর) এ খাতে আবার নতুন রেকর্ড করে দেশটি। আগের বছরের তুলনায় ৯ শতাংশ বেড়ে এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের কূপগুলো থেকে দৈনিক গড়ে ৭৫০ কোটি ঘনফুট বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস উত্তোলন হয়। পণ্যটির এ টেকসই উত্তোলন প্রবৃদ্ধির প্রভাব পড়ে দামে, যা ২০১৯ সালের প্রায় পুরোটা জুড়ে অব্যাহত ছিল।

এদিকে এ সময় প্রাকৃতিক গ্যাসের বাজারে নিজের অবস্থান আরো শক্ত করে তোলে যুক্তরাষ্ট্র। পাইপলাইনযোগে ও এলএনজি হিসেবে পণ্যটির রফতানি ব্যাপক পরিমাণে বাড়িয়ে তোলে দেশটি। গত বছরের প্রথম ১০ মাসে মেক্সিকোয় পাইপলাইন যোগে দৈনিক গড়ে ৫১০ কোটি ঘনফুট বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস রফতানি করে যুক্তরাষ্ট্র, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা দৈনিক গড়ে ৪০ কোটি ঘনফুট বেশি।

অন্যদিকে ২০১৯ সালে এলএনজি (তরল প্রাকৃতিক গ্যাস) রফতানিতে নতুন রেকর্ড করে যুক্তরাষ্ট্র। এ সময় দেশটি থেকে দৈনিক গড়ে ৫০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি হয়, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেশি।

সূত্র: অয়েলপ্রাইস ডটকম ও ইআইএ।