মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো গেলে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। সম্প্রতি পেশাদার পরিষেবা নেটওয়ার্ক প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপার্সের (পিডব্লিউসি) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে বলা হয়, কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে এসব দেশের জিডিপি ২ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বাড়বে। খবর দ্য ন্যাশনাল নিউজ।

এমইএনএ উইমেন ইন ওয়ার্ক সার্ভে ২০২২ জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়োগকর্তাদের উচিত নারীদের কাজের ক্ষেত্রে আরো উৎসাহ দেয়া। কর্মক্ষেত্রগুলোকে নারীবান্ধব করে তোলা এবং তরুণ নারীদের মেধা কাজে লাগানো যায়, তাদের আকৃষ্ট করা যায়— এমন কাজের ক্ষেত্র উন্মুক্ত করা।

পিডব্লিউসির মধ্যপ্রাচ্যের সিনিয়র পার্টনার হানি আশকার বলেন, এ অঞ্চলের ব্যবসার সাফল্য ও আরো প্রসারে নারীর অংশগ্রহণ, তাদের উন্নয়ন, বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ দিয়ে সময়ের সঙ্গে উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এমনভাবে কর্মীদের উৎসাহ দিতে হবে যেন তারা কর্মক্ষেত্রে সমতার বিষয়টি বুঝতে পারেন। সেই সঙ্গে কর্মস্থলের সংস্কৃতি সংস্কারেরও উদ্যোগ নিতে হবে। এছাড়া নারী কর্মীদের সহায়তার বিষয়টি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণও করতে হবে।

এ জরিপের জন্য গত জানুয়ারিতে ১৮-৩৫ বছর বয়সী দেড় হাজার নারীর কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে পিডব্লিউসি। এ নারীরা বাহরাইন, মিসর, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক। সব মিলিয়ে এ দেশগুলোর জনসংখ্যা ৮ কোটি ১০ লাখ এবং তাদের মোট অর্থনীতির আকার ২ ট্রিলিয়ন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এসব দেশের কর্মক্ষেত্রে নারীরা অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধন করেছেন। কিন্তু এখনো মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোয় নারী কর্মীদের যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারেনি। অর্থাৎ নারী শ্রমশক্তির কাছ থেকে সর্বোচ্চটুকু আদায় করে নিতে পারেনি।

গত কয়েক বছরে নারীর অংশগ্রহণের ফলে সবচেয়ে লাভবান হয়েছে আরব উপসাগরীয় দেশগুলো। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও কাতার। জরিপের তথ্য বলছে, আরব উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রাপ্তবয়স্ক ৪০ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টভুক্ত দেশগুলোর মোট ৬৪ শতাংশ নারী কর্মে যুক্ত।

এর মধ্যে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ মিসর, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্মক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক পদে নারী কর্মীর হার ২০ শতাংশেরও কম। পিডব্লিউসির তথ্য অনুযায়ী, এমইএনএ অঞ্চলে যে জরিপ চালানো হয়েছে তার ৮৪ শতাংশ নারীই বলেছেন, তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে নেতা হতে চান। তারা এটাও বলেছেন, চাকরিই তাদের জীবনের মূল লক্ষ্য নয়। ৮০ শতাংশ নারী বলছেন, নিজের পরিবারের কর্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করাও তাদের জন্য সমান জরুরি।

৯৪ শতাংশ নারী বলছেন, কর্ম ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে সামঞ্জস্য করে চলার পরিবেশ ও যথাযথ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে— এমন নিয়োগকর্তাই তাদের পছন্দ। জরিপে অংশ নেয়া ৬২ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, তাদের নিয়োগকর্তার কাছ থেকে যে পরিমাণ সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যায় তা যথাযথ।

পিডব্লিউসি মধ্যপ্রাচ্যের ইনক্লুশন অ্যান্ড ডাইভারসিটি লিডার নরমা তাকি বলেন, এমইএনএ অঞ্চলের কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের পরিমাণ বাড়াতে যেসব উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, সেগুলোকে স্বাগত জানাই। দেশগুলোর সরকারের উচিত কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া। আবার প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত নারীবান্ধব কর্মপরিবেশ সৃষ্টির দিকে মনোযোগী হওয়া। প্রয়োজনে নারীদের আকৃষ্ট করে বাড়িতে বসে কাজের সুযোগও সৃষ্টি করা উচিত। কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কী ধরনের বাধা আছে তা চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া উচিত।