বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। এর মধ্যেই যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়াসহ কয়েকটি দেশে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসের নতুন একটি রূপের বিস্তার ঘটেছে, যা আগের স্বরূপগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি করোনা নিয়ে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের বাজারে। করোনা সংক্রমণের নতুন এ আশঙ্কা আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দরপতন ঘটিয়েছে। খবর রয়টার্স।

রয়টার্স প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ কার্যদিবসে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ২২ শতাংশ কমেছে। দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৫০ ডলার ২৯ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৬২ সেন্ট কম।

একই চিত্র দেখা গেছে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামেও। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে সর্বশেষ কার্যদিবসে জ্বালানি পণ্যটির দাম আগের দিনের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ৭২ সেন্ট কমেছে। দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআইয়ের দাম দাঁড়িয়েছে ৪৭ ডলার ২৫ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ কম।

গত সোমবারও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছিল। খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, কমার এ হার অব্যাহত থাকলে বড়দিনের আগে ব্রেন্ট ক্রুডের ব্যারেল ফের ৫০ ডলারের নিচে নেমে আসতে পারে।

বছর শেষের আগে যেখানে ধনী দেশগুলো করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে ক্রমশ আশাবাদী হয়ে উঠছিল, ঠিক তখনই দুঃসংবাদ দেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি জানান, ভাইরাসের নতুন একটি বিবর্তিত রূপ লন্ডন ও দক্ষিণ-পূর্ব ইংল্যান্ডে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। এর পর পরই যুক্তরাজ্যের সঙ্গে আকাশপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে ভারতসহ বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশ। এ পরিস্থিতি নতুন আতঙ্ক জন্ম দেয়ার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের দরপতন ঘটিয়েছে।