যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দর থেকে প্রতিদিন ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করছে ইজিজেট। চলতি মাসের বাকি সময়ের জন্য সময়সূচি থেকে ফ্লাইটগুলো বাদ দেয়া হচ্ছে। ভ্রমণ বিশৃঙ্খলা এড়াতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ব্রিটিশ স্বল্প-ব্যয়ের উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

সাম্প্রতিক সময়ে কর্মী ঘাটতির কারণে যুক্তরাজ্যজুড়ে ভ্রমণ বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ব্রিটিশ রানীর দায়িত্ব গ্রহণের প্লাটিনাম জয়ন্তীর ছুটিতে এ বিশৃঙ্খলা ব্যাপক আকার ধারণ করে। ছুটিতে অবসরযাপনে গিয়ে অনেক ব্রিটিশ বিভিন্ন দেশে আটকা পড়েছিলেন। ইজিজেটের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা পিটার বেলেউ বলেন, আগামী দিনগুলোয় ফ্লাইট বাতিলের উদ্দেশ্য হলো নেটওয়ার্কজুড়ে স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়ে তোলা।

১৬টি ব্রিটিশ বিমানবন্দরে উড্ডয়ন ও অবতরণ মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৭০০ ফ্লাইট পরিচালনা করে বাজেট এয়ারলাইনসটি। সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেন, আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে চ্যালেঞ্জিং পরিবেশ তৈরি হওয়ায় আমরা জুনে আগাম ফ্লাইট বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর ফলে যে অসুবিধা হবে তার জন্য আমরা খুবই দুঃখিত। যেসব গ্রাহকের ফ্লাইট বাতিল করা হচ্ছে, আমরা তাদের আগেই জানিয়ে দিচ্ছি। পাশাপাশি তাদের পুনরায় বিকল্প বুকিংয়ের সুবিধা সরবরাহ করা হচ্ছে। কিংবা তারা বুকিংয়ের অর্থ ফেরতও নিতে পারছেন।

তিনি বলেন, গ্রাহকদের সব ধরনের সুবিধা দিতে আমরা পরিষেবার সময়ও বাড়িয়ে দিয়েছি। আমরা আমাদের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে যাচ্ছি এবং প্রয়োজনে আগাম ব্যবস্থা নিচ্ছি।

গত মার্চে ব্রিটিশ সরকার অবশিষ্ট কভিডজনিত ভ্রমণ বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার পর ভ্রমণ চাহিদা বেড়েছে। এজন্য প্রতিযোগীদের মতো ইজিজেটও অতিরিক্ত চাহিদা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। পুরো এভিয়েশন খাতই ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে। আর এ বিশৃঙ্খলার জন্য এয়ারলাইনস ও এয়ারপোর্টে কর্মী ঘাটতিকে দায়ী করা হচ্ছে।

লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরের প্রধান নির্বাহী জন হল্যান্ড-কায়েসহ এ খাতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা নতুন কর্মী নিয়োগের জন্য নিরাপত্তা ছাড়পত্রের নিয়মগুলো সহজ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। জন হল্যান্ড-কায়ে বলেন, এভিয়েশন খাত যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে, তা আগামী ১৮ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

৪ জুন শেষ হওয়া সপ্তাহে ইউরোপজুড়ে ফ্লাইট বিলম্ব প্রায় ১ লাখ মিনিট বেড়েছে। ইউরোপীয় আকাশসীমা পরিচালনাকারী ইউরোকন্ট্রোলের তথ্য অনুসারে, ৫০ শতাংশ ফ্লাইট বিলম্বের জন্য দায়ী সক্ষমতা ও কর্মী ঘাটতি। যুক্তরাজ্যের ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিথ্রো দিয়ে মে মাসে ৫৩ লাখ যাত্রী পারাপার হয়েছে। এ সংখ্যা ২০১৯ সালের মার্চের পর সর্বোচ্চ। এটি মহামারীর আগে ২০১৯ সালের মে মাসের স্তরের ৭৯ শতাংশ। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় অনেক যাত্রী হিথ্রো বিমানবন্দরে বিলম্বের রিপোর্ট করা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৯০ শতাংশ যাত্রী ১০ মিনিটেরও কম সময়ে নিরাপত্তা চেকিং পার হয়েছে।