বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান রয়েছে মূল্যস্ফীতি। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে খাদ্য ও জ্বালানির দাম। এতে বেড়ে যাচ্ছে সরকারি ব্যয়ও। অন্যদিকে মহামারীর শুরু থেকেই ব্যাপক হারে বেড়েছে ঋণের পরিমাণ। কভিডের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে ঋণের দ্বারস্থ হয় সরকার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। রেকর্ড পরিমাণ ঋণ পরিশোধের চাপে সরকারি ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে দরিদ্র দেশগুলো। এ অবস্থায় দেশগুলো সরকারি ব্যয় কমাতে বাধ্য হচ্ছে। মূলত একটি কার্যকর ঋণ অব্যাহতি প্রকল্পের অভাবের কারণে এমন সমস্যা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত নতুন একটি সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
অন্যায্য ঋণ এবং দারিদ্র্য ও বৈষম্যের অবসানে প্রচার চালানো ডেবট জাস্টিসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত দেশগুলো ২০১৯-২৩ সালের মধ্যে সরকারি ব্যয় গড়ে ৩ শতাংশ কমিয়ে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও দেশগুলোকে খাদ্য ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দামের প্রভাব মোকাবেলায় ব্যয় আরো বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে কম ঋণের দেশগুলো এ সময়ে গড়ে ১৪ শতাংশ ব্যয় বৃদ্ধি করবে।
ঋণের পরিমাণ ও সরকারি ব্যয়ের জন্য সংস্থাটি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য ব্যবহার করেছে। প্রচারাভিযান গ্রুপটি বলেছে, উচ্চ ও নিম্ন ঋণের দেশগুলোর মধ্যে ক্রমবর্ধমান এ বৈষম্য ব্যাপকভাবে ঋণ অব্যাহতির প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে।
চলতি সপ্তাহে নিম্ন আয়ের দেশগুলোয় ঋণ সংকটের বিষয়ে ব্রিটিশ আইনসভার নিম্নকক্ষ হাউজ অব কমন্সের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন নির্বাচন কমিটিও একটি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এটি আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক উভয়ের জন্যই উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পূর্বে জুবিলি ডেবট ক্যাম্পেন নামে পরিচিত ডেবট জাস্টিস বলেছে, বেসরকারি ঋণদাতাদের ঋণ অব্যাহতিতে অংশ নিতে বাধ্য করার জন্য নিজের ক্ষমতা ব্যবহার করা উচিত যুক্তরাজ্যের।
প্রচারণা গোষ্ঠীটির জ্যেষ্ঠ নীতি কর্মকর্তা টেস উইলফেন্ডেন বলেন, বর্তমানে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করা খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে। অথচ এমন সময়ে নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে ঋণ পরিশোধে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
২০২০ সালে কভিড-১৯ মহামারীর প্রাথমিক পর্যায়ে ধনী দেশগুলোর জোট জি২০ সাময়িকভাবে ঋণ অব্যাহতির জন্য একটি সাধারণ কাঠামো তৈরিতে সম্মত হয়েছিল। তবে বেসরকারি ঋণদাতাদের বিরোধিতার কারণে এ প্রকল্পের মাধ্যমে কোনো দেশ এখনো উপকৃত হয়নি। জি২০ দেশগুলোর ঋণ অব্যাহতি প্রকল্পের জন্য যোগ্য দেশগুলোর ৯০ শতাংশ বন্ড ব্রিটিশ আইনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে উল্লেখ করে উইলফেন্ডেন বলেন, যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই বেসরকারি ঋণদাতাদের ঋণ অব্যাহতিতে অংশ নিতে হবে। বহুমুখী সংকটের এ সময়ে ধনী ঋণদাতাদের ঋণ পরিশোধের বিষয়টি মানুষের চাহিদার চেয়ে অগ্রাধিকার দেয়া উচিত নয়।
ডেবট জাস্টিস জানিয়েছে, সরকারি ব্যয় থেকে সম্পদ সরিয়ে ঋণ পরিশোধে বাধ্য করা দেশগুলোর একটি সিয়েরা লিওন। ২০১৪-১৫ সালে ইবোলা সংকটের সময় থেকে পশ্চিম আফ্রিকার দেশটি উচ্চ ঋণের বোঝা বহন করছে। এর মধ্যে মহামারীতে ঋণের পরিমাণ আরো বেড়েছে। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৩ সালে জনপ্রতি প্রকৃত সরকারি ব্যয় ২০১৫ সালের তুলনায় ২০ শতাংশ কমে যাবে। যেখানে ২০১৯ সালের তুলনায় এ ব্যয় কমবে ৪ শতাংশ। তাছাড়া সরকারি ব্যয়ে এমন নিম্নমুখী প্রবণতা ২০২৫ সাল পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সিয়েরা লিওনের বাজেট অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কের সমন্বয়কারী আবু বকর কামারা বলেন, সিয়েরা লিওন গত কয়েক বছরে দুটি বড় স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। ইবোলা সংকটের প্রভাব শেষ না হতেই দেশটি কভিড-১৯ মহামারীর বিপর্যয়ে পড়ে। এ দুই সংকট দেশটির স্বাস্থ্য খাত ও অর্থনীতিকে ভেঙে দিয়েছে। ঋণ পরিশোধের জন্য দেশটিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ঋণ অব্যাহতি দেশটির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি দেশটির সরকারকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক উপায়ে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে পারে।










