যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনকে আরো ২৫০ কোটি ডলার অনুদান দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সেখানকার সরকারি সেবা ও পুনরুদ্ধার প্রচেষ্টাকে আরো এগিয়ে নেয়ার জন্য এ অনুদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর আনাদোলু এজেন্সি।
বিশ্ব ব্যাংকের পাবলিক এক্সপেন্ডিচার ফর অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্যাপাসিটি এন্ডুরেন্স ইন ইউক্রেন (পিইএসিই) প্রকল্পের অধীনে দেশটির বাজেটে সরাসরি অবদান রাখতেই এ সহায়তা দেয়া হয়েছে। চলমান যুদ্ধের মধ্যেই প্রয়োজনীয় পরিষেবা এবং মূল সরকারি কর্মকাণ্ড চলমান রাখতে প্রকল্পটি হাতে নেয়া হয়।
পিইএসিই প্রকল্পের অধীনে আগেও ইউক্রেনে বেশ কয়েক দফায় আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। সেসবের ওপরে এবার কিছু মূল খাতে সুবিধা দেয়ার কারণেই অতিরিক্ত আর্থিক অনুদানের বিষয়টি এসেছে। খাতগুলো হলো—স্বাস্থ্য যত্ন, স্কুল, পেনশন প্রদান ও দেশের ভেতরে স্থানচ্যুত হওয়া জনগণকে অর্থ দেয়া। পাশাপাশি সামাজিক সহযোগিতা কার্যক্রম এবং যেসব কর্মীরা সরকারি পরিষেবা প্রদান করে যাচ্ছে, তাদের বেতন-ভাতা দেয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতা করবে এ অনুদান।
আর্থিক তহবিলটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট যা ইউএসএআইডি নামে বেশি পরিচিত, তাদের মাধ্যমে দেয়া হবে। বিশ্বব্যাংকের এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের প্রধান ডেভিড মালপাস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সংস্থাটি এ পর্যন্ত ইউক্রেনকে ২ হাজার ৬০ কোটি ডলারের সহায়তা দিয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন ধাপে এ সহায়তা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। তার মধ্যে ১ হাজার ৮৫০ কোটি ডলার এরই মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে, যেগুলো ১ কোটি ২০ ইউক্রেনীয়র কাছে পৌঁছে গেছে।’
অনুদানের মোট অর্থ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, সুইজারল্যান্ড ও জাপানের দাতাদের অঙ্গীকারের ভিত্তিতে দেয়া হয়েছে। ডেভিড মালপাস আরো বলেন, ‘জরুরি পুনর্গঠন প্রকল্প এবং পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠন প্রচেষ্টার জন্য সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে ইউক্রেনীয় জনগণের জন্য বিশ্বব্যাংকের সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’
ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান যুদ্ধের এক বছর পূর্ণ হলো। গত বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে সামরিক আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া, এ সংঘাতের ফলে দীর্ঘ এক বছরে বিশ্বে সৃষ্টি হয়েছে নানা সংকট। দুই দেশের মধ্যে চলমান এ বিধ্বংসী যুদ্ধে ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সবচেয়ে বেশি। তবে যুদ্ধের প্রভাবে সারা বিশ্বই প্রভাবিত হয়েছে চরমভাবে। ফলে মিসরে গমের সংকট থেকে শুরু করে বৈশ্বিক তেলের বাজারে মূল্যবৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিসহ নানা সংকট দেখা দিয়েছে বিভিন্ন দেশে।
যুদ্ধের প্রভাবে ইউক্রেনের জিডিপিতেও আসে অনেক বড় প্রভাব। ২০২২ সালে ইউক্রেনের জিডিপি ৩০ শতাংশ হ্রাস পায়। সে বছর রাশিয়ার লোকসান ছিল ২ দশমিক ১ শতাংশ। তবে এ যুদ্ধে কতজন হতাহত হয়েছে সে সংখ্যা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পশ্চিমা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অনুমান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর প্রায় দুই লাখ রাশিয়ান সৈন্য নিহত হয়েছে। ইউক্রেনের সংখ্যা কম বলে মনে করা হয়। তবে এখনো এক লাখের বেশি সেনা নিহত বা আহত হয়েছে। জাতিসংঘের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী নিহত বেসামরিক ইউক্রেনীয়র সংখ্যা আট হাজারের বেশি। এছাড়া ১ কোটি ৪০ লাখ ইউক্রেনীয় বাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। তারা হয় অন্য দেশে বা নিজের দেশের অন্যান্য অংশে চলে গেছে।










