চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে কানাডার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার মন্থর হয়েছে। ফলে ব্যাংক অব কানাডা সুদহার বাড়ানোর পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে পারে। যদিও প্রকাশিত তথ্যে উচ্চ মূল্যস্ফীতি হার স্পষ্ট। সম্প্রতি দেশটিতে দ্বিতীয় প্রান্তিকের জিডিপির প্রতিবেদন প্রকাশের পর এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। খবর রয়টার্স।

আগামী সেপ্টেম্বরে ব্যাংক অব কানাডার নীতিগত সিদ্ধান্ত আসার আগে সর্বশেষ বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদন হলো এ জিডিপি প্রতিবেদন। অর্থনীতিবিদরা দ্বিতীয় প্রান্তিকে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ১ দশমিক ১ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেন, যা বছরের প্রথম প্রান্তিকের ৩ দশমিক ১ শতাংশ থেকে কমে এসেছে।

জুলাইয়ের ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি ৩ শতাংশের ওপরে ওঠার পর বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে ব্যাংকের ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা থেকে তা অনেক দূরে। মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণে সেপ্টেম্বরে আরো এক দফা সুদহার বাড়ানো হতে পারে। ব্যাংক অব কানাডা জুলাইয়ে তার বেঞ্চমার্ক রেট বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে, যা ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ব্যাংক আরো জানায়, সুদহার বাড়ানোর বিষয়ে আগামীতে সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে তারা অর্থনৈতিক ডাটা প্রতিবেদনগুলো নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করবে।

ব্যাংক অব আমেরিকা মেরিল লিঞ্চের কানাডা ও মেক্সিকোর অর্থনীতি বিষয়ক প্রধান কার্লোস ক্যাপিস্ট্রান ব্যাংকের সেপ্টেম্বরের সিদ্ধান্তে আসন্ন জিডিপি প্রতিবেদনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি আরো জানান, তথ্য প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এখনো ব্যাংকের ভবিষ্যতে সুদহার বাড়ানোর পথ উন্মুক্ত। দ্বিতীয় প্রান্তিকের মন্দাভাব জ্বালানি প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও বেসামরিক কর্মচারীদের ধর্মঘটের মতো কারণগুলোর জন্যই হতে পারে। বিশ্লেষকরা জানান, চলতি প্রান্তিকে তথ্যের পাশাপাশি প্রকাশিত হতে যাওয়া জুলাইয়ের প্রাথমিক পূর্ভাবাসের হারের প্রাক্কলন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিএমও ক্যাপিটাল মার্কেটসের কানাডিয়ান রেট ও ম্যাক্রো কৌশলী বেঞ্জামিন রিটজেস জানান, যদি অর্থনৈতিক মন্দাভাব স্পষ্ট দেখা যায়, তবে ব্যাংক অব কানাডা আপাতত সুদহার ৫ শতাংশে স্থির রাখার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। বছরের শেষ দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি আরো কঠোর হতে পারে, সম্ভবত সুদহার ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ পৌঁছবে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উত্তর আমেরিকার উপপ্রধান অর্থনীতিবিদ স্টিফেন ব্রাউন জুনে জিডিপি কমে যাওয়া ও জুলাইয়ে বন্দর ধর্মঘটের কারণে তৃতীয় প্রান্তিকে নেতিবাচক জিডিপি আশঙ্কা করছেন। তবে কিছু অর্থনীতিবিদ যুক্তি দিচ্ছেন, প্রবৃদ্ধির গঠনে বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য ব্যাংক অব কানাডার সিদ্ধান্তকেও প্রভাবিত করতে পারে। সিআইবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু গ্র্যান্থাম পরামর্শ দেন যদি অভ্যন্তরীণ চাহিদা শক্তিশালী থাকে, তবে ব্যাংক সেপ্টেম্বরে সুদহার বাড়ানো অব্যাহত রাখতে পারে।