নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারী অন্যান্য অনেক পণ্যের মতো দুগ্ধপণ্যের বাজারেও টালমাটাল পরিস্থিতি তৈরি করেছে। ২০২০ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে দুগ্ধপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) অকশনের সূচক একবার বেড়েছে তো পরক্ষণেই কমে এসেছে। তবে চলতি বছরের সর্বশেষ নিলামে জিডিটি সূচক চাঙ্গা ছিল। আগের নিলামের তুলনায় নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধপণ্যের মূল্যসূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ নিলামে মাখন, পনির, ননিযুক্ত ও ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ—সব ধরনের দুগ্ধপণ্যের দাম বাড়তির দিকে ছিল। খবর নিউজিল্যান্ড হেরাল্ড ও রয়টার্স।
চলতি বছরের সর্বশেষ আন্তর্জাতিক নিলামে সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৮১২ টন দুগ্ধপণ্য সরবরাহ হয়েছে। এর মধ্যে বিক্রি হয়েছে ৩১ হাজার ৭০১ টন দুগ্ধপণ্য। নিলামে প্রতি টন দুগ্ধপণ্যের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩১৭ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
এর মধ্য দিয়ে টানা তিন নিলাম ধরে দুগ্ধপণ্যের গড় দামে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। সর্বশেষ গত ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত জিডিটি নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম কমতির দিকে ছিল। এরপর আর কমেনি দুগ্ধপণ্যের গড় দাম। ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত পরবর্তী জিডিটি নিলামে দুগ্ধপণ্যের গড় মূল্যসূচক বেড়েছিল ১ দশমিক ৮ শতাংশ। এরপর ১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নিলামে দুগ্ধপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক আগের নিলামের তুলনায় আরো ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়ে।
সর্বশেষ জিডিটি নিলামে মাখন, পনির, ননিযুক্ত ও ননিবিহীন গুঁড়ো দুধ—সব ধরনের দুগ্ধপণ্যের দাম বাড়তির দিকে ছিল। জিডিটি প্রাইস ইনডেক্স অনুযায়ী, এ নিলামে প্রতি টন মাখনের গড় দাম ছিল ৪ হাজার ২২১ ডলার, যা আগের নিলামের তুলনায় ৬ শতাংশ। এ সময় সব ধরনের দুগ্ধপণ্যের মধ্যে মাখনের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
চলতি বছরের সর্বশেষ জিডিটি নিলামে পনিরের দাম আগের নিলামের তুলনায় ৪ দশমিক ২ শতাংশ চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ জিডিটি নিলামে প্রতি টন পনিরের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮৯৩ ডলারে।
একই চিত্র দেখা গেছে ননিযুক্ত ও ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের দামেও। বছরের শেষ আন্তর্জাতিক নিলামে প্রতি টন ননিযুক্ত গুঁড়ো দুধের গড় দাম দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ২১০ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
সর্বশেষ জিডিটি নিলামে ননিবিহীন গুঁড়ো দুধের গড় দাম দাঁড়িয়েছে টনপ্রতি ২ হাজার ৯৩০ ডলারে, যা আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ বেশি। এ সময় ল্যাকটোজেনের গড় দাম আগের নিলামের তুলনায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে টনপ্রতি ১ হাজার ২৪ ডলারে উন্নীত হয়েছে। পরবর্তী জিডিটি নিলাম অনুষ্ঠিত হবে ২০২১ সালের ৫ জানুয়ারি।










