পেঁয়াজ আমদানির ছাড়পত্র (আইপি) না থাকায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে দেশের বাজারে পণ্যটির সরবরাহ কমেছে। ফলে দুদিনের ব্যবধানে আমদানীকৃত ও দেশীয় পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৫ টাকা করে বেড়েছে। আইপি পেতে দেরি হলে দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।

গতকাল সরেজমিনে হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সব দোকানেই আমদানীকৃত ও দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ রয়েছে। তবে পেঁয়াজের দাম আগের তুলনায় কিছুটা বাড়তির দিকে। যেসব ভারতীয় পেঁয়াজ দুদিন আগে ২৮-৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল বর্তমানে তা ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশীয় পেঁয়াজ দুদিন আগে ৩৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত ২৯ এপ্রিল থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে গেলেও শুধু একজন আমদানিকারকের রেলপথে পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি ছিল। ১১ মে মোট ৪২টি ওয়াগনে ১ হাজার ৬০৮ টন পেঁয়াজ আমদানি করেন তিনি।

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা ইসরাফিল হোসেন বলেন, পেঁয়াজের আইপি শেষ হয়ে যাওয়ায় বন্দর দিয়ে গত মাস থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানীকৃত পেঁয়াজের সরবরাহ কমে আসায় পেঁয়াজের দাম বাড়ছে। এছাড়া বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দেশীয় পেঁয়াজের ওপর চাপ বেড়েছে। ফলে এসব পেঁয়াজের দামও বাড়ছে।

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক মোবারক হোসেন বলেন, ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির আইপির মেয়াদ গত ২৯ এপ্রিল শেষ হয়ে গেছে। ফলে ওইদিনের পর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ রয়েছে। আমরা পেঁয়াজ আমদানির জন্য অনুমোদন চেয়ে নতুন করে আবেদন করেছি। তবে এখনো কোনো আইপি ইস্যু করা হয়নি। যদি আইপি দেয়া না হয় তাহলে দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম আরো বাড়বে। শুধু দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজ দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। তাই পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের আইপি ইস্যু করা উচিত।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা ইউসুফ আলী বলেন, আইপির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় গত ২৯ এপ্রিলের পর থেকে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পেঁয়াজ আসা বন্ধ রয়েছে। এখন পর্যন্ত নতুন করে পেঁয়াজ আমদানির জন্য মন্ত্রণালয় থেকে কোনো আইপি ইস্যু করা হয়নি, সম্ভাবনাও নেই।