চলতি বছরের ১ জুলাই ইউক্রেনে শুরু হয়েছে নতুন শস্য বিপণন মৌসুম। চলবে আগামী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রতি বছর দেশটিতে শস্য উৎপাদন ক্রমাগত বাড়ছে। এর জের ধরে দেশটির খাদ্যশস্য রফতানিও বাড়ছে। ২০১৯-২০ মৌসুমের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে দেশটি থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে ৩৭ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি হয়েছে। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় সংস্থা ফুড সেফটি অ্যান্ড কনজিউমার প্রটেকশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হছে। খবর ইন্টারফ্যাক্স।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মাসের ১-৩১ জুলাই দেশটি থেকে ৩৭ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি হয়েছে। এর মধ্যে গম ১৪ লাখ টন, ১০ লাখ টন যব ও ১৩ লাখ টন ভুট্টা রফতানি হয়েছে। একই সময় দেশটি থেকে সাত লাখ টন তেলবীজ রফতানি হয়েছে। যেখানে গত বছর একই সময় দেশটি থেকে তিন লাখের বেশি তেলবীজ রফতানি হয়েছিল।
দেশটি থেকে শস্য রফতানির মাসভিত্তিক এ তথ্যে গম এবং যব রফতানি বৃদ্ধির বিষয়টিও উঠে এসেছে।
গত বছর একই সময় দেশটি থেকে ২৪ লাখ টন খাদ্যশস্য রফতানি হয়েছিল। যার মধ্য গম রফতানি হয়েছিল ১০ লাখ টন, যব ছয় লাখ টন ও সাত লাখ টন ভুট্টা।
পূর্ব ইউরোপের দেশ ইউক্রেন কৃষিপণ্য উৎপাদনে বেশ সমৃদ্ধ। গম, যব, ভুট্টা, ভেজিটেবল অয়েল, তেলবীজসহ বিভিন্ন ধরনের শস্য আন্তর্জাতিক বাজারে রফতানি করে দেশটি। গত বছর মোট সাত কোটি টন শস্য উৎপাদন করেছিল ইউক্রেন, যা দেশটির শস্য উৎপাদন ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-জুন ১ হাজার ৩০ কোটি ডলারের খাদ্যশস্য রফতানি করেছে ইউক্রেন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।
এদিকে জুলাই মাসের প্রথম পাঁচদিনে ইউক্রেন থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সম্মিলিতভাবে মোট ৬ লাখ ৩৬ হাজার টন খাদ্যশস্য রফতানি হয়েছে। আগের মৌসুমের একই সময়ে দেশটি থেকে সম্মিলিত শস্য রফতানির পরিমাণ ছিল ৫ লাখ ৮৪ হাজার টন। অর্থাৎ আগের বছরের একই সময়ের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫২ হাজার টন খাদ্যশস্য রফতানি বেড়েছে। ২০১৮-১৯ মৌসুমজুড়ে দেশটি মোট ৪ কোটি ৯৭ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের শস্য রফতানি করেছিল।
চলতি মৌসুমে ইউক্রেনের কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শস্য উৎপাদনের কোনো পূর্বাভাস দেয়া হয়নি। তবে বছর শেষে উৎপাদিত শস্যের পরিমাণ মোটামুটি আগের বছরের কাছাকাছি থাকবে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।










