চলতি বছর চীনে কয়লা উত্তোলন প্রবৃদ্ধি ধীর হওয়ার আভাস মিলেছে। সেখানে জ্বালানিটির উত্তোলন গত বছরের তুলনায় মাত্র ৩ কোটি ৬০ লাখ টন বা দশমিক ৮ শতাংশ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে চায়না কোল ট্রান্সপোর্টেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন অ্যাসোসিয়েশন (সিসিটিডি)। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪৭০ কোটি টনে। 

সিসিটিডি জানায়, চীনের স্থানীয় বাজারে বর্তমানে কয়লার দাম অনেক কম। আগামী দিনগুলোয় দাম আরো কমতে পারে। এজন্য দেশটির রিয়েল এস্টেট খাত কিছুটা দায়ী বলে জানিয়েছেন সিসিটিডি গবেষণা বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ফেং হোয়ামিন। 

তিনি জানান, ‌কয়লা উত্তোলনের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত সাংশি। চলতি বছর সেখানের খনিগুলো উত্তোলন কমাবে। নিরাপত্তাজনিত নজরদারি বাড়ায় উত্তোলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। এদিকে জ্বালানিটির বিপুল পরিমাণ মজুদের কারণেও খনিগুলো উত্তোলন কমাচ্ছে বলে জানা গেছে।’

তবে চলতি বছর চীনে কয়লার ব্যবহার নিম্নমুখী থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। কারণ এ সময় সেখানে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন ঘুরে দাঁড়াতে পারে। পাশাপাশি সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদনও বাড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তন রোধের অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার শূন্যে নামিয়ে আনার জোর প্রচেষ্টা চলছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির দিকে ঝুঁকছে বর্তমান বিশ্ব। জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক বৈশ্বিক সম্মেলনে প্রথমবারের মতো তেল, গ্যাস ও কয়লার মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার জন্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে বহুমুখী প্রচেষ্টার পরও কয়লার ব্যবহার বাড়ছে পাল্লা দিয়ে। ফলে কার্বন নিঃসরণ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

এশিয়ার দেশগুলো এখনো জ্বালানি হিসেবে কয়লার ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। এটির ব্যবহার রোধে এ অঞ্চলের দেশগুলোয় নীতিগত চাপও কম। ব্যাপক মজুদের পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী হওয়ায় এ অঞ্চলের বিদ্যুৎ খাতে জ্বালানি চাহিদার বড় একটি অংশই পূরণ করে কয়লা। ফলে এখানে খনি থেকে কয়লা উত্তোলন ও রফতানি দুটোই বাড়ছে সমানতালে।

বিশ্লেষকরা জানান, অন্যান্য অঞ্চলে কমলেও এশিয়ার দেশগুলোয় কয়লার ব্যবহার ও আমদানি আরো বাড়বে। বিশেষ করে চীন, ভারত, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলো লম্বা সময় ধরে বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে জ্বালানিটি ব্যবহার করবে।

চীনে ২০২৫ সালে কয়লার ব্যবহার সর্বোচ্চে উঠার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির পেট্রোকেমিক্যাল করপোরেশন (সিনোপেক)। এ সময় চীনে কয়লা ব্যবহারের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৪৩৭ কোটি টনে।