লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জের (এলএমই) তালিকাভুক্ত গুদামগুলোয় অব্যাহত কমছে ধাতব পণ্যের মজুদ। এতে আগামী দিনগুলোয় তামা, টিন ও দস্তাসহ অন্যান্য ধাতব পণ্যের দাম লাগাম ছাড়া হয়ে উঠবে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

গত বছর কভিডজনিত লকডাউন শিথিল হতে শুরু করলে শিল্প উৎপাদন খাতে পুনরুদ্ধার ঘটে। বাজারে ধাতব পণ্যের চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দেয়। বিশেষ করে শীর্ষ ব্যবহারকারী দেশ চীনে এসব পণ্যের চাহিদা ছিল আকাশছোঁয়া। কিন্তু উত্তোলন কিংবা উৎপাদন সে তুলনায় বাড়েনি। এ কারণে এলএমইর গুদামগুলোর ওপর চাপ পড়ে। অব্যাহত মজুদ কমতে থাকায় দেখা দিয়েছে সংকট।

চীনে করোনাভাইরাস আবারো ভয়াবহ আঘাত হানায় সম্প্রতি দাম কিছুটা স্থিতিশীল। কিন্তু চাহিদা এখনো ঊর্ধ্বমুখী। তার ওপর ঘাটতি ও মজুদ কমে যাওয়া বাজার পরিস্থিতিকে আরো বেশি অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর আগেও এলএমইর তালিকভুক্ত গুদামগুলোয় মজুদে নিম্নমুখিতা দেখা দিয়েছিল। কিন্তু তখন তা উদ্বেগের জন্ম দেয়নি। কারণ অব-এক্সচেঞ্জ মজুদ ছিল বেশি। কিন্তু বর্তমানে উভয় মজুদই ভয়াবহ রকম কমেছে।

ভ্যালেন্ট অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের পোর্টফোলিও ম্যানেজার জ্যা টেটাম বলেন, আমরা বর্তমানে ধাতব পণ্যের এমন এক সংকটাপন্ন অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা ২০০৪-০৬-এর পর আর দেখা যায়নি।

তথ্য বলছে, গত বছরের জানুয়ারিতে এলএমইতে ধাতব পণ্যের মজুদের পরিমাণ ছিল ২০ লাখ টন। কিন্তু চলতি বছর মজুদ কমতে কমতে নয় লাখ টনে এসে ঠেকেছে। এর মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের মজুদ ২১ বছরের সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। মজুদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৭০০ টনে। তামার মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬৫০ টন। এছাড়া দস্তা মজুদের পরিমাণ ৮৪ হাজার ৭০০ টন।