চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূলধন ব্যয় গত বছরের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে। এ নিয়ে টানা চতুর্থ প্রান্তিকে দেশটিতে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। এর জের ধরে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দিকে ঝুঁকছে জাপান। খবর কিয়োদো নিউজ।
সম্প্রতি জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, কারখানা স্থাপন ও সরঞ্জামের জন্য অর্থবহির্ভূত খাতের বিনিয়োগ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৯ হাজার কোটি ইয়েন (১১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার)। উৎপাদকদের মূলধন ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ব্যবসায়িক বিনিয়োগে প্রধান ভূমিকা ছিল গাড়ি নির্মাতা সংস্থাগুলোর। আধুনিকায়নের পাশাপাশি কার্বন নিরপেক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে নিঃসরণ কমাতে ব্যাপক হারে বিনিয়োগ করছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
জাপানের উৎপাদনবহির্ভূত খাতের ব্যয় ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১০ লাখ কোটি ইয়েনে উন্নীত হয়েছে। আবাসন ব্যবসাগুলো নতুন নতুন চুক্তি করেছে। এছাড়া আধুনিকায়ন ও নতুন নতুন দোকান খুলেছে পাইকারি এবং খুচরা ব্যবসায়ীরা।
এ বিষয়ে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, উৎপাদন খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসায়িক বিনিয়োগ পুনরুদ্ধার হয়ে প্রাক-কভিড পর্যায়ে পৌঁছেছে। কভিড-১৯ মহামারীর বিপর্যয় কাটিয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। যদিও এখনো কিছু খাতের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মহামারীর কারণে বিপর্যস্ত অবস্থায় রয়েছে।
নোরিনচুকিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকাশি মিনামি বলেন, কার্বন নিঃসরণ রোধ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছে জাপানি সংস্থাগুলো। ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিরপেক্ষ সমাজ গঠনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ জাপান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান প্রধান গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী দিনগুলোয় ব্যবসা-বিনিয়োগ বাড়ানোর অন্যতম প্রধান বিষয় হবে পরিবেশবান্ধব পদক্ষেপ গ্রহণ।
সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেন যুদ্ধের জের ধরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের সমীক্ষায় সংস্থাগুলোর করপূর্ব মুনাফা ও বিক্রি বেশি ছিল। প্রতিষ্ঠানের করপূর্ব মুনাফা ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ২২ লাখ ৮০ হাজার কোটি ইয়েনে উন্নীত হয়েছে। কেমিক্যাল শিল্প খাতের উন্নয়ন এক্ষেত্রে বিরাট অবদান রেখেছে। টানা চতুর্থ প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রিও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। বিক্রি ৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে ৩৬০ লাখ ৮০ হাজার কোটি ইয়েনে উন্নীত হয়েছে।
এদিকে বছরের প্রথম তিন মাসে জাপানের জিডিপি ১ শতাংশ সংকুচিত হয়। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ায় আরোপিত বিধিনিষেধের ফলে অর্থনৈতিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।










