দেশে এক মাসে রেকর্ড দেড় কোটি কেজি চা উৎপাদন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার সঙ্গে বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে অক্টোবরে এ চা উৎপাদন করেছে দেশের ১৬৭টি বাগান। অক্টোবর পর্যন্ত ১০ মাসে মোট চা উৎপাদন হয়েছে প্রায় আট কোটি কেজি। আগামী দুই মাসে উৎপাদনের এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছর দেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ চা উৎপাদন হতে পারে বলে আশা করছেন চা শিল্প-সংশ্লিষ্টরা।
চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, অক্টোবরে দেশের বাগানগুলোয় চা উৎপাদন হয় ১ কোটি ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার কেজি। নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণে দেশব্যাপী লকডাউন থাকলেও বাগানগুলোয় উৎপাদন কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদন হয়েছে। এক বছর ধরে অনুকূল আবহাওয়া, সরকারের আর্থিক প্রণোদনা, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও চা বোর্ডের নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, বাগানমালিক ও শ্রমিকদের নিরলস প্রচেষ্টোর ফলে দেশের ১৬৭টি চা বাগান ও ক্ষুদ্রায়তন চা বাগানে ৭ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছে।
চা বোর্ডের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগস্টে দেশে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১ কোটি ৪৩ লাখ ৮৭ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়। ২০২০ সালের অক্টোবরে হয়েছিল ১ কোটি ১৪ লাখ ৮৬ হাজার কেজি এবং ২০১৯ সালের অক্টোবরে উৎপাদন হয়েছিল ১ কোটি ৩৪ লাখ ৭ হাজার কেজি। চলতি বছরের ১২ মাসে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৮০ হাজার কেজি চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এরই মধ্যে ১০ মাসেই উৎপাদনের সে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে ২০২০ সালে দেশে মোট ৮ কোটি ৬৩ লাখ ৯৪ হাজার এবং ২০১৯ সালে ৯ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার কেজি চা উৎপাদন হয়েছিল।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন,
কভিড পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় দেশের সব চা বাগানের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। চা শিল্পের জন্য বাগানগুলোকে ১২০ কোটি টাকা আর্থিক প্রণোদনা বিতরণ, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চা নিলাম কেন্দ্র চালু রাখা, চা রফতানির ক্ষেত্রে প্রণোদনা, সঠিক সময়ে ভর্তুকি মূল্যে সার বিতরণ, চা শ্রমিকদের নির্ধারিত সময়ে মজুরি পরিশোধ, রেশন ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করায় এ বছর চায়ের উৎপাদন অনেক ভালো। অক্টোবরের রেকর্ড উৎপাদন চা শিল্পের জন্য একটি ঐতিহাসিক ঘটনা বলে মনে করেন তিনি।









