উন্নয়ন ও পর্যটকদের চাপে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী শহরের মর্যাদা হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে লাওসের লুয়াং প্রাবাং। মেকং ও নাম খান নদীর মাঝে অবস্থিত লুয়াং প্রাবাং পর্যটন গন্তব্যটিতে রয়েছে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সঙ্গে ফরাসি ঔপনিবেশিক স্থাপত্যের ছাপ। তবে সম্প্রতি ইউনেস্কোর এক প্রতিবেদনে এ-বিষয়ক ঝুঁকি ও তার সম্ভাব্য সমাধানের কিছু পথ তুলে ধরা হয়েছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, সংরক্ষিত পুরনো ঐতিহ্যবাহী কোয়ার্টারগুলোকে ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া অতিরিক্ত পর্যটকের চাপ ও অঞ্চলটির বিলুপ্তপ্রায় সংস্কৃতি নিয়েও উদ্বেগ বেড়েছে। এরই সঙ্গে লাওস-থাইল্যান্ডের যৌথ উদ্যোগে নতুন আরেকটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ তৈরির কাজ চলছে।
ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সেন্টারের সাবেক উপপরিচালক মিনজা ইয়াং আশঙ্কা করছেন, এ বাঁধের কারণে নদীতীরবর্তী ঐতিহাসিক শহরটি হ্রদের তীরে পরিণত হতে পারে। তিনি আরো জানান, যদি দ্বিতীয় বাঁধটি সত্যিই নির্মিত হয়, তবে লুয়াং প্রাবাংকে ইউনেস্কোর তালিকা থেকে বাদ দেয়া হতে পারে।
লুয়াং প্রাবাং লাওসের প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে একটি, যা কয়েক শতাব্দী ধরে রাজকীয় ও ধর্মীয় রাজধানী হিসেবে ব্যবহার হয়েছে। সংরক্ষিত স্থাপত্য শিল্প ও নদীতীরবর্তী অবস্থানের কারণে শহরটি ১৯৯৫ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী তালিকাভুক্ত হয়। বর্তমানে সেখানে ৬০০টির বেশি ভবন ও ১৮৩টি জলাভূমি সুরক্ষিত রয়েছে।
দেশটিতে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির সঙ্গে পর্যটন অর্থনীতি সম্প্রসারণ হয়েছে। কিন্তু ২০ বছরে বিদেশী দর্শনার্থীর সংখ্যা দশ গুণ বেড়ে বছরে প্রায় আট লাখে উন্নীত হয়েছে। স্থানীয়রা পর্যটন অর্থনীতিকে স্বাগত জানালেও নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হলে পরিবেশগত ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে চিন্তিত।










