বাড়িতে বসে কাজ করার সুযোগ হারাচ্ছেন অ্যামাজনের কর্মীরা। অবশ্য এ সুযোগ পুরোপুরি তুলে নেয়া হচ্ছে না। আপাতত সপ্তাহে তিনদিন অফিসে গিয়ে কাজ করতে হবে কোম্পানিটির কর্মীদের। আগামী ১ মে থেকে এ নিয়ম কার্যকর হবে। সে পর্যন্ত আগের নিয়মেই কাজ চলবে অ্যামাজনে। খবর বিবিসি।
অ্যামাজনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যান্ডি জ্যাসি মনে করেন, অফিসে গিয়ে কাজ করতে শুরু করলে কর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে, ক্যারিয়ারে উন্নতি হবে এবং করপোরেট সংস্কৃতির সঙ্গে তারা মানিয়ে নিতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের ব্লগে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা পাশাপাশি বসে কাজ করি তখন পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পায়, নতুন কিছু উদ্ভাবন সহজ হয়। এ পদক্ষেপের ফলে ভার্জিনিয়া, ন্যাশভিলসহ বিভিন্ন শহরের যে কর্মীরা রোজ অফিসে যান, তারা উদ্বুদ্ধ হবেন।’
এর আগে ২০২০ সালে বিশ্বব্যাপী নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হলে দেশগুলোয় লকডাউন ঘোষণা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রাতিষ্ঠানিক কাজ চালিয়ে নিতে বাড়িতে বসে কাজের ব্যবস্থা শুরু হয়। লকডাউন ও সংক্রমণ চলাকালে কিছু জরুরি সেবা বাদে বাকি সব প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই বাড়িতে বসে অফিস করেছেন। ‘রিমোট অফিস’ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ এ দুটো শব্দবন্ধ সেই সময়ই মূলত ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। মহামারী শেষ হলে ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করে অফিসগুলো, যদিও অনেক প্রতিষ্ঠানই কর্মীদের আগের মতো হোম অফিসের সুযোগ দিয়ে আসছিল। কিছু গবেষণায় বাড়িতে বসে বা অফিস থেকে দূরে কাজের ইতিবাচক দিকও উঠে এসেছিল। আবার কিছু গবেষক বলছেন, কর্মীদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক বাড়াতে ও দক্ষতার উন্নয়নে অফিস থেকে কাজ করার বিকল্প নেই।
এমন বাস্তবতায় অ্যামাজন, ডিজনি, স্টারবাকসের মতো প্রতিষ্ঠান আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে কর্মীদের অফিসে ফেরাতে শুরু করেছে। গত জানুয়ারিতে নীতিমালায় পরিবর্তন এনে ডিজনি ঘোষণা দেয়, মার্চ থেকে কর্মীদের সপ্তাহে অন্তত চারদিন অফিসে গিয়ে কাজ করতে হবে। স্টারবাকস এ সংখ্যা নির্ধারণ করেছে সপ্তাহে তিনদিন। একই সিদ্ধান্ত নিয়েছে গেমিং প্রতিষ্ঠান অ্যাক্টিভিশন ব্লিজার্ড।
কেবল এসব কোম্পানিই নয়, বিখ্যাত মালিকের বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান যেমন ইলোন মাস্কের টুইটার ও টেসলায় বাড়িতে বসে কাজ করার সুযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। অবশ্য এমনও কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন কর্মীরা। তাদের বিরোধিতার কারণে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেনি কোম্পানিগুলো।
অ্যামাজন প্রধানও বলেছেন, অফিসে ও বাড়িতে বসে কাজের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক খতিয়ে দেখবেন তার কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। এর পরই কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি নতুন নিয়মে কাজ শুরু করতে অনেক কর্মীরই হয়তো সমস্যা হবে। তারা মানিয়ে নিতে পারবেন না। কিন্তু আমি বিষয়টির ইতিবাচক দিক বিবেচনা করতে চাই। আমি মনে করি কর্মীদের উন্নতি ও সাফল্যের জন্য অফিসে গিয়ে কাজ করার বিকল্প নেই।’
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, গ্রাহকসেবা ও বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে যে কর্মীরা কাজ করেন, তাদের জন্য অফিসে গিয়ে কাজের এ নিয়ম আপাতত চালু হচ্ছে না।










